প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

ঢাকার যানজট নিরসনে ১২টি রুটে ২৫৮ কিলোমিটার সাবওয়ে, ৩৯ দশমিক ২৪ কিলোমিটার ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ৮৮ কিলোমিটার ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি রাজধানীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে একাধিক সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানে ২০৫০ সাল নাগাদ ৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কার্যপত্র অনুযায়ী, সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। তবে নির্মাণকাজ শুরুর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রস্তাবিত ৮৮ কিলোমিটার রিং রোডের প্রায় ২৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার উড়ালসড়ক হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের হালনাগাদ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্বিক অগ্রগতি ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৭৩ শতাংশ এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ভৌত অগ্রগতি ৭৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এ দুটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সাভার ইপিজেড থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার নিরবচ্ছিন্ন উড়ালসড়ক তৈরি হবে। এ ছাড়া পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
রাজধানীর বাইরে পায়রা নদীর ওপর ১ হাজার ৬৯০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শরীয়তপুর-চাঁদপুর এবং ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর সড়কেও মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে বিকল্প যোগাযোগ তৈরি হবে এবং প্রধান মহাসড়কগুলোর ওপর যানবাহনের চাপ কমতে পারে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি