প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৬ পিএম

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বাসা থেকে বের হওয়ার পর কোথায় গিয়েছিলেন তিনি, কে তাঁকে ডেকে নিয়েছিলেন, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে শেষ বার্তা দেওয়ার আগে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর উপকণ্ঠে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন যে এলাকায় মরদেহ পাওয়া গেছে, সেখানে আগে কখনো যাননি তাহসিফ। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলালের ভাষ্য, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে এক বন্ধু ও জুনিয়র বাসার নিচ থেকে ডাকলে মাকে জানিয়ে বেরিয়ে যান তাহসিফ। এরপর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ‘আম্মু, আমি আসছি’ লিখে বার্তা পাঠান তিনি। সেটিই ছিল পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ যোগাযোগ। ছেলেকে খুঁজতে বুধবার দুপুরে তুরাগ থানায় গিয়েছিলেন বাবা। পরে বিকেলে উত্তরখান থানার ওসি ফোন করে মরদেহ উদ্ধারের খবর জানান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর পর আলোচনায় এসেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার পুরোনো অভিযোগ। তবে এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। মৃত্যুর সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতির কারণ হিসেবে তাঁর বাবা শৃঙ্খলাভঙ্গের কথা জানালেও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক সম্পর্কে পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি। বাবার ভাষ্য, তাহসিফ একবার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, তবে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির কথা জানাননি। মৃত্যুর আগে এক পডকাস্টে তাহসিফ অভিযোগটিকে ‘প্রমাণহীন অভিযোগ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁর এক বন্ধু মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনার যোগসূত্র থাকার সন্দেহ প্রকাশ করলেও এর পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এখন মৃত্যুর কারণ, শেষ কয়েক ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা—সবকিছুর উত্তর নির্ভর করছে তদন্তের ওপর।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি