প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

অমর একুশে বইমেলা এবারও ফেব্রুয়ারিতে হচ্ছে না। পবিত্র রমজানের কথা বিবেচনায় নিয়ে ২০২৭ সালের বইমেলা ৭ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা একাডেমি। তবে মেলার সময় এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তে একুশের চেতনা ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির সঙ্গে বইমেলার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লেখক ও সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বই বিক্রির পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করাও এই মেলার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলা একাডেমিকে দেওয়া চিঠিতে নতুন সময়সূচির প্রস্তাব দেয়। পরে ১৩ অক্টোবর বাংলা একাডেমিতে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম জানিয়েছেন, নিয়মিত প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতার কারণে জানুয়ারিতে মেলা আয়োজনের জন্য একাডেমি প্রস্তুত। তবে লেখক ও গবেষক সালেক খোকনের মতে, মেলার সময় বারবার পরিবর্তন শুধু তারিখের বিষয় নয়; এর সঙ্গে একুশের চেতনা ধারণের প্রশ্নও জড়িত। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন মনে করেন, মেলার সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের পাশাপাশি প্রকাশনা খাতের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
বই বিক্রি ও নতুন বই প্রকাশের পরিসংখ্যানেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৬ সালের মেলায় ১৪ মার্চ পর্যন্ত ২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিক্রি ছিল প্রায় আট কোটি টাকা। ২০২৫ সালে নতুন বই এসেছিল ৩ হাজার ২৯৩টি, ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭টিতে। তবে বিক্রি ও নতুন বই কমার একমাত্র কারণ মেলার সময়সূচির পরিবর্তন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। প্রকাশকদের মতে, মেলার তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশনা পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, বইমেলার ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকাশনা খাতের সংকট মোকাবিলা ও নতুন পাঠক তৈরিতেও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি