প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ ছাড় দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গত ১৯ অক্টোবর ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে, যা ওই দিন থেকেই কার্যকর। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা কেনাকাটায় সীমিত দরপত্র ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহক, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তিন পক্ষের চুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাসাবাড়ি, চা বাগান, সেচপাম্প, হিমাগার, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং কেন্দ্র এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সুযোগ থাকছে। প্রতিটি ব্যবস্থার উৎপাদনক্ষমতা সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট হতে পারবে। সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রমের নীতিগত দিকনির্দেশনা ও সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় পরিষদ গঠনের বিধানও রয়েছে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) স্থাপিত ব্যবস্থার তথ্য সংরক্ষণ ও কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করবে।
অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি, ক্ষতিসাধন, অবৈধ সংযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কাজে বাধা দেওয়ার জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। স্রেডার হিসাবে, দেশে সৌরবিদ্যুতের মোট উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৮৫২ মেগাওয়াট, যার মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ছিল প্রায় ৪১৮ মেগাওয়াট। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা অর্জন। এ লক্ষ্য পূরণে বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ, যন্ত্রপাতি কেনাকাটা ও রক্ষণাবেক্ষণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি