প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম

খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া সব সময় বিপদের লক্ষণ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এটি শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার হজমের সময় গ্লুকোজ তৈরি হয়ে রক্তে মেশে। তখন অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়, যা গ্লুকোজকে শরীরের কোষে পৌঁছে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। সাধারণত খাবার খাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর রক্তে শর্করার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় এবং পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে কমে আসে।
তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে তা শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করা বা পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না হওয়ার কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে চোখ ও স্নায়ুর ক্ষতি, হৃদ্রোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস নেই এমন সুস্থ মানুষের সারাক্ষণ গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ ডিভাইস ব্যবহারের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত উচ্চমানের গবেষণাপ্রমাণ নেই বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাদা পাউরুটি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে পূর্ণ শস্য, আঁশসমৃদ্ধ শাকসবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। খাবারে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশের ভারসাম্য থাকলে হজম ধীর হতে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ঘুম, মানসিক চাপ ও শারীরিক কর্মকাণ্ডও গ্লুকোজের মাত্রায় প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিবার গ্লুকোজ বাড়লেই আতঙ্কিত না হয়ে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি