প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১২ পিএম

অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নতুন ঋণ পেতে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গত রোববার শেষ হওয়া সংস্থা দুটির বার্ষিক সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের কাছে আগামী তিন বছরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলারের অর্থায়ন চেয়েছে সরকার। পাশাপাশি আইএমএফের সঙ্গে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব অর্থায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন বা অর্থ ছাড় এখনো নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণচুক্তি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে হতে পারে।
নতুন ঋণের বিনিময়ে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব আয় বাড়ানো, কর-জিডিপি অনুপাত উন্নত করা এবং ভর্তুকি কমানোর মতো শর্ত আসতে পারে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে কিছু বিষয়ে সংস্থাটির উদ্বেগ রয়েছে। সরকার সংস্কার কার্যক্রম একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিতে চায়। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংক জ্বালানি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় অর্থায়নের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে অতিরিক্ত ১ হাজার কোটি ডলারের অর্থায়ন এখনো অনুমোদিত ঋণ নয়; এর পরিমাণ, শর্ত ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে।
বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের পুনঃমূলধনীকরণে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি থাইল্যান্ডের সঙ্গে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালাল খাদ্য, শিল্প ও যৌথ উৎপাদনে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি প্রয়োজন। ফলে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হলেও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরাতে ঋণের পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কার ও কর্মসংস্থানমুখী বিনিয়োগ বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি