পুরান ঢাকার বড় কাটরার যা ৪০০ বছর পুরানো, তাছাড়া আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, নিমতলী ভবনসহ হাজার হাজার শতবর্ষী দুর্বল বিল্ডিং এখনো টিকে আছে। সেখানে আমার কমনসেন্স বলে, দেড়-দুশো বছরের মধ্যে বড় কোনো ভূমিকম্প হলে এগুলো থাকত না। গতকালের ভূমিকম্পে শতাধিক লোকের প্যানিক অ্যাটাক হয়েছে। এখনো অনেক লোক প্যানিকে আছে, কখন আবার আরেকটি বড় ভূমিকম্প শুরু হবে, এতো প্যানিকের কিছু নেই, আল্লাহ ভরসা।
জীবনে অনেক ভূমিকম্প দেখেছি, তবে মৃত্যু (১১ জন) দেখলাম এ প্রথম। গতকাল ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুরান ঢাকায় ছিলাম। এর মাত্রা ছিল মাত্র ৫.৫। অতীতে এরচেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের সাক্ষী আমি নিজে। কিন্তু এত তীব্র ঝাঁকুনি জীবনে প্রথম।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন আখতার বলেন, ভূমিকম্পে যে ঝাঁকুনি হলো, তা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। কারণ ভূমিকম্পের কেন্দ্রের গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। গভীরতা যত কম, ঝাঁকুনি তত বেশি। ভূমিকম্প মূলত পৃথিবীর ভূত্বক (চলাচলের স্থান) বা উপরের স্তরে ঘটে এবং পৃষ্ঠ থেকে ৮০০ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত এর উৎস হতে পারে। এ মাত্রার ভূমিকম্প যদি ৮০০ কিলোমিটার গভীরে হতো, তবে তার প্রভাব ভূপৃষ্ঠে খুব সামান্যই টের পাওয়া যেত। কিন্তু ১০ কিমি গভীরে ভূকম্প ঘটায় ঝাঁকুনি অনেক বেশি তীব্র হয়।
তাছাড়া, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ঢাকার খুব কাছাকাছি ছিল, মাত্র ১৩ কিমি দূরে। কেন্দ্রস্থল খুব কাছাকাছি হওয়ায় এর তীব্রতা বেশি হয়েছে। আরেকটা বিষয়, ভূমিকম্পের সময় আপনি যত উঁচু বিল্ডিংয়ের যতটা উঁচুতে থাকবেন, ততোই তীব্র কম্পন অনুভব করবেন। উচ্চতা যত বেশি, ভূমিকম্পের তীব্রতা ততো বেশি।
সর্বশেষ ১৫৪৮, ১৬৪২, ১৭৬২, ১৮৯৮, ১৯১৮ এর বড় ভূমিকম্পগুলো আমাদের সকলকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
লেখক: গণমাধ্যম কর্মী
(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত)