
সাতক্ষীরা শহরে কলেজছাত্র জাকারিয়া খান (১৯) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের কথিত নেতা নাহিদ হাসান (২৫)সহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার ২ নম্বর আসামি মোহিত হাসান বনি (২০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে নিহত জাকারিয়ার ভাই মো. শাহরিয়ার খান বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি করেন। নাহিদ হাসান শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দীনের ছেলে। নিহত জাকারিয়া শহরের কাটিয়া এলাকার রুচিরা বেকারির মালিক আব্দুল গফুর খানের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাতে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে কদমগাছতলায় রবিউলের চায়ের দোকানে নাহিদসহ কয়েকজন চা খেতে যান। এ সময় দ্রুত চা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চা বিক্রেতা রবিউলের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি ও গালিগালাজ হয়। রবিউলের প্রতিবেশী ভাইপো বাপ্পী হাসান এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর এবং মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় জাকারিয়া বাপ্পীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে নাহিদ হাসান জাকারিয়ার বাম পাশে বুকে ছুরিকাঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জাকারিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহারে নাহিদ হাসান ছাড়াও শহরের ইটাগাছা এলাকার আরিজুল ইসলাম (২৮), ছোট ময়না (২৭), জুয়েল (২৪), সাগর (২৩), রনি (৩০), সামি (২৪), নাঈম (২২), রাশিদুর জামান রাশেদ (৩০), হুজাইফা (২০) ও শরিফুল ইসলাম শরিফ (২৮)কে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের ফুফাতো ভাই ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন দাবি করেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তাঁরা দেখতে পেয়েছেন। তিনি নাহিদসহ মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা থাকার দাবি করেছে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. রমজান আলীকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় সদর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে আহত করার ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নাহিদের বিরুদ্ধে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছুরিকাঘাত ও আঙুল কেটে দেওয়ার মতো আরও অভিযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি বা পুলিশের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে নাহিদের রাজনৈতিক প্রভাবশালী স্বজনদের বিষয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। নাহিদের চাচা স্থানীয় পৌর বিএনপি নেতা নাছির উদ্দীনের প্রভাবের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আগের বিভিন্ন অভিযোগের যথাযথ ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, তাঁর ভাইপো মুহিদ হাসান বনি ও জাকির হোসেন রনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং ঘটনার সময় নাহিদও সেখানে ছিলেন না। তাঁদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। নাহিদের বিরুদ্ধে আগের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করুক—এতে তাঁদের আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার জানান, কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি