
একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুর আট দিন পর বাংলা, ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের সিলেবাস প্রকাশ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে পাঠ পরিকল্পনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা অবশেষে কিছুটা কাটল।
২৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়। এর আগেই এনসিটিবি নির্ধারিত বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যায়। তবে বইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পূর্ণাঙ্গ পাঠ পরিকল্পনা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সিলেবাস প্রকাশিত না থাকায় শিক্ষাবর্ষের প্রথম সপ্তাহে অনেকটা অপেক্ষার মধ্যেই থাকতে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
শেষ পর্যন্ত ২ অক্টোবর এনসিটিবির ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের পাঠ্যসূচি প্রকাশ করা হয়। একই সময়ে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান শ্রেণির জন্য নির্ধারিত পাঠ্যসূচি প্রকাশের তথ্যও এনসিটিবির নোটিশে দেখা যায়।
এর আগে এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের সম্পাদনার কাজ শেষ করে সেগুলো কারিকুলাম শাখায় পাঠানো হয়েছিল। সিলেবাস ও মানবণ্টন চূড়ান্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রক্রিয়াও চলছিল। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে।
এনসিটিবির সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক ড. এ কে এম শওকত আলী খান জানিয়েছিলেন, আগের বছরের কারিকুলাম ও মানবণ্টন এবারও রাখা হবে। তবে আইসিটি বিষয়ে কিছু কনটেন্ট পরিবর্তনের পাশাপাশি এর পরিসর বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্লাস রুটিন ও লেসন প্ল্যান নিয়েও কাজ চলছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
প্রকাশিত আইসিটি পাঠ্যসূচিতে মোট ছয়টি অধ্যায় রাখা হয়েছে। অধ্যায়গুলো হলো—‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’, ‘কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং’, ‘সংখ্যা পদ্ধতি ও ডিজিটাল ডিভাইস’, ‘ওয়েব ডিজাইন পরিচিতি ও HTML’, ‘প্রোগ্রামিং ভাষা’ এবং ‘ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’।
অন্যদিকে সিলেবাস প্রকাশের দেরির সময়েই একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমও চলেছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তির আবেদন ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার পর সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করে ১ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়।
প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী। তাদের নিয়েই ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে আরও ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৬ জন ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।
এবার কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে মোট ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি। ফলে দ্বিতীয় ধাপের আবেদনকারীরা ভর্তি হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে কারিগরিসহ দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।
সব মিলিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুর আগেই পাঠ্যসূচি প্রকাশের প্রত্যাশা থাকলেও এবার তা হয়েছে ক্লাস শুরুর আট দিন পর। ফলে প্রথম সপ্তাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সিলেবাস প্রকাশের মাধ্যমে এখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি