প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম

শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশটির প্রায় ৪০০ স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের প্রতিবাদে রাজধানী প্যারিস অঞ্চলে গত মাসে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে বিক্ষোভে কয়েক ডজন মানুষ আহত এবং প্রায় ২ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন শুক্রবার আরটিএল রেডিওকে বলেন, বিক্ষোভে একটি সক্রিয় ও সহিংস সংখ্যালঘু গোষ্ঠী অংশ নিচ্ছে। তাদের সবাই উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত নয়। তিনি জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
দারমানিন বলেন, ‘আমরা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার পর্যায়ে চলে গেছি। মানুষ যখন বাসে হামলা করে এবং স্কুলে আগুন ধরিয়ে দেয়, তখন সেটি আর কেবল বিক্ষোভের বিষয় থাকে না।’
ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্স-২ টেলিভিশনকে বলেন, শুক্রবার ‘৪০০টির কিছু বেশি স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ বন্ধ থাকবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের সংকট বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, কট্টর বামপন্থি রাজনীতিকদের একটি অংশ বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করেছে। তাদের মধ্যে লা ফ্রান্স ইনসুমিজের (এলএফআই) সদস্যরাও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
তবে এলএফআইয়ের আইনপ্রণেতা লুই বোয়ার্ড ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে দেওয়া বক্তব্যে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা অন্তত দুটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইয়ে আরেকটি স্কুলে শিক্ষকদের গায়ে ভুলবশত পেট্রল ছিটকে পড়ে। পূর্বাঞ্চলীয় স্ত্রাসবুর্গে অন্তত একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তুলুজে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে তরুণদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
বিক্ষোভের প্রভাব ফ্রান্সের বাইরেও দেখা গেছে। প্রতিবেশী বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরেও বৃহস্পতিবার কিছু উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লিয়েজের সব স্কুল শুক্রবার বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে শহর প্রশাসনের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি