সোমবার ● ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আর কর্মস্থলে ফেরেননি, চাকরি গেল ইসি কর্মীর      ● চেম্বারের নির্বাচন বাতিল, নতুন প্রশাসক নিয়োগ      ● ক্যান্টনমেন্টের সাবেক ওসি রাকিবুল ফের রিমান্ডে      ● একদিনে ১৬ জন আক্রান্ত হামে      ● বেশি রেড মিট খেলে বাড়তে পারে যে ক্যান্সারের ঝুঁকি      ● ১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির      ● গাজা নিয়ে সিনেমা, নেতানিয়াহুর রোষে দুই ইসরায়েলি নির্মাতা      ● ১৮ দেশের বাজার ধরতে রপ্তানি কৌশল করছে সরকার      ● সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য      ● মেডিকেল-ঢাবি ছেড়ে গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল জজ হাসান      ● ছত্তিশগড়ের রিতেশ পাল ইন্ডিয়াস বেস্ট ড্যান্সার      ● ইয়াবার টাকার দ্বন্দ্বে জাকারিয়া হত্যা      
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আর কর্মস্থলে ফেরেননি, চাকরি গেল ইসি কর্মীর
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম

ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আর কর্মস্থলে ফেরেননি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক কর্মচারী। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইসি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ অনুযায়ী, মোছা. ফাতেমা খাতুন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত ছিলেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ফাতেমা খাতুন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি নতুন জন্মনিবন্ধন নম্বর ও পাসপোর্ট ব্যবহার করে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে৫৮৭ ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। তদন্তে তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের তথ্যও পাওয়া যায়।

কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির অভিযোগ ওঠার পর কুষ্টিয়ার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে অনুসন্ধান করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত ফাতেমা খাতুনের ছুটি অনুমোদন করা হয়েছিল। তবে ওই ছুটি শুরুর আগেই ২৭ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে ফাতেমা খাতুন ২০২৫ সালের ২০ মার্চ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেন। এ সময় তার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার বসবাসের ঠিকানায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে তিনি সপরিবারে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।

পরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০১/২০২৬ রুজু করা হয়।

গত ৯ এপ্রিল তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠানো হয়। তবে তিনি কিংবা তার পক্ষে কেউ তা গ্রহণ করেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগের জবাব না দেওয়া এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন না করায় বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান ঝিনাইদহের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন। তদন্তে ইমিগ্রেশন থেকে সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনুমোদিত ছুটি শুরুর আগেই ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর ফাতেমা খাতুন দেশ ত্যাগ করেন। তদন্ত কর্মকর্তা তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

এরপর তাকে চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তসহ বিধিতে উল্লেখিত অন্য কোনো গুরুদণ্ড কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। গত ১৩ আগস্ট জারি করা ওই নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। নোটিশটি তার সর্বশেষ বাসস্থানে টাঙিয়ে প্রদর্শনের পাশাপাশি স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং কর্মস্থলে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো হয়। তবে তিনি বা তার পক্ষ থেকে কেউ নোটিশ গ্রহণ করেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।

পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪-এর উপবিধি ৩-এর দফা ‘গ’ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে এ দণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চূড়ান্ত আদেশে মোছা. ফাতেমা খাতুনকে ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে চাকরি থেকে অপসারণের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।



স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি



আরও সংবাদ   বিষয়:  নির্বাচন কমিশন   ইসি   ইসি কর্মচারী   ফাতেমা খাতুন   চাকরিচ্যুত   চাকরি থেকে অপসারণ   যুক্তরাষ্ট্র   অননুমোদিত বিদেশযাত্রা   অননুমোদিত অনুপস্থিতি   বিভাগীয় তদন্ত   সরকারি চাকরি   ভেড়ামারা উপজেলা নির্�  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close