
অস্ট্রেলিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন একটি আইন প্রস্তাব করেছে, যার লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীদের নিজেদের ফিডের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের জানাতে হবে তাদের ফিডে ডিফল্টভাবে কী ধরনের কনটেন্ট দেখানো হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীদের সেই ব্যবস্থা পরিবর্তনের সুযোগ দিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মঙ্গলবার এই প্রস্তাবের ঘোষণা দিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় ব্যবহারকারীরা চাইলে অ্যালগরিদম-নির্ভর ব্যক্তিগতকৃত কনটেন্ট দেখতে পারবেন। আবার কেউ চাইলে এই সুপারিশ ব্যবস্থা বন্ধ করে শুধু নিজের অনুসরণ করা বন্ধু, ক্রিয়েটর ও অ্যাকাউন্টগুলোর পোস্ট দেখতে পারবেন।
প্রস্তাবটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘My Feed, My Way’। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
আলবানিজ এই উদ্যোগকে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি সরকারের হাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার জন্য নয়; বরং ব্যবহারকারীদের নিজেদের ফিড নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়ার জন্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও আচরণ বিশ্লেষণ করে অ্যালগরিদম নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট বারবার সামনে নিয়ে আসে। এর ফলে অতিরিক্ত বা আসক্তিমূলক ব্যবহার বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রস্তাবে প্ল্যাটফর্মগুলোকে দেশটির ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করছে, সে বিষয়ে তথ্য সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করার বাধ্যবাধকতাও রাখার কথা বলা হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনাটি অস্ট্রেলিয়ার আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের পর এসেছে। দেশটি এরই মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বে প্রথমবারের মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের সঙ্গেও নতুন উদ্যোগটির তুলনা করা হচ্ছে। ওই আইনের অধীনে ব্যবহারকারীদের প্রোফাইলিং বন্ধ করার সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে সেই অপ্ট-আউট প্রক্রিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য যথেষ্ট সহজ নয়—এমন সমালোচনাও হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন আইন অনুযায়ী নিয়ম না মানলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ১০৯.২ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা প্রায় ৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, জরিমানা করা হতে পারে। আইনটি বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার eSafety regulator গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এ ছাড়া ক্ষতিকর, নগ্নতাসংক্রান্ত এবং অবৈধ কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এ নিয়ে ইতোমধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রি-স্পিচ অধিকারকর্মীরা। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন নিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত সেন্সরশিপের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অবশ্য প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণ দেওয়া নয়, বরং মানুষের হাতে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া।
আইনটি পার্লামেন্টে তোলার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং অধিকারকর্মীদের মতামত নেওয়া হবে। এরপর চলতি বছরের শেষ দিকে বিলটি পার্লামেন্টে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি