বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      মিছিলের চেষ্টা, ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আটক      এনসিপি নেতাদের গণধোলাই দিতে হবে: এমদাদ চৌধুরী      ৬৮ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি      ৪২ বোতল বিদেশি মদসহ আটক ৩      বিগত সরকারের সময়ে কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট হয়েছে : ড. এম এ কাইয়ুম      আজ জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী       নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট নয়, জানুয়ারিতে স্থানীয় নির্বাচন: ইসি      বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম      ‘বাকেরের ফাঁসি’ ঠেকাতে রাস্তায় নেমেছিল মানুষ      মানুষ ও প্রাণীর নীরব বন্ধনের গল্প ‘হার্ট অব দ্য বিস্ট’-এ      শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, দায়িত্বশীল হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার      
এআই যখন মুহূর্তেই লিখছে, লেখকদের চাকরি কি থাকবে?
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩২ পিএম

একটি লেখা তৈরি করতে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত। বিষয় নির্বাচন, তথ্য সংগ্রহ, খসড়া তৈরি, সম্পাদনা—সব মিলিয়ে লেখালেখি ছিল ধৈর্য, সৃজনশীলতা ও দক্ষতার কাজ। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কারণে সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। নির্দেশ দিলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তৈরি হচ্ছে প্রবন্ধ, ব্লগ, বিজ্ঞাপনের কপি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এমনকি গল্প-কবিতার খসড়াও।

চ্যাটজিপিটি, জেমিনিসহ বিভিন্ন জেনারেটিভ এআই টুল লেখার কাজকে সহজ করেছে। একই সঙ্গে সামনে এসেছে বড় প্রশ্ন—এআই যদি এত দ্রুত লিখতে পারে, তাহলে লেখকদের চাকরি কি থাকবে?

প্রশ্নটি শুধু লেখকদের নয়। কনটেন্ট রাইটার, কপিরাইটার, অনুবাদক ও সাংবাদিকসহ ভাষা ও তথ্যনির্ভর পেশায় থাকা অনেকের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন ভাবনা।

কয়েক সেকেন্ডে লেখা, কমছে সময়
এআইয়ের অন্যতম বড় শক্তি হলো গতি। নির্দিষ্ট বিষয়, কাঠামো ও ভাষার ধরন জানিয়ে দিলে এটি দ্রুত একটি খসড়া তৈরি করতে পারে।

পণ্যের বর্ণনা, সাধারণ ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ই-মেইল, সারাংশ কিংবা নিয়মিত রিপোর্টের মতো পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে এআই বিশেষভাবে কার্যকর। একই ধরনের কাজ বারবার করতে হলে এটি উল্লেখযোগ্য সময় বাঁচাতে পারে।

তবে লেখার কাজ সহজ হলেও পুরো দায়িত্ব এআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া যায় না। তৈরি লেখার মান, তথ্যের সঠিকতা এবং প্রকাশের দায় নেওয়ার জন্য এখনো মানুষের প্রয়োজন।

দ্রুত লেখা আর ভালো লেখা এক নয়
এআই দ্রুত লিখতে পারে, কিন্তু দ্রুত লেখা আর ভালো লেখা একই বিষয় নয়। এআই কখনো ভুল তথ্য দিতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এমন তথ্যও উপস্থাপন করতে পারে, যার বাস্তব ভিত্তি নেই।

সাংবাদিকতা, গবেষণা, স্বাস্থ্য, আইন কিংবা অর্থনীতির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তাই এআইয়ের তৈরি তথ্য যাচাই না করে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ।

একজন দক্ষ লেখক শুধু বাক্য তৈরি করেন না। তিনি তথ্যের সত্যতা যাচাই করেন, সূত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা বিচার করেন এবং পাঠকের জন্য কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণ করেন।

মানুষের অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই
ভালো লেখার শক্তি শুধু ব্যাকরণ বা সুন্দর শব্দে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ, অনুভূতি এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি।

একজন মানুষ নিজের দেখা ঘটনা নিয়ে লিখতে পারেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেন এবং কোনো ঘটনা বা সংস্কৃতির সূক্ষ্ম দিক নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরতে পারেন।

এআই এসব তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা তার নিজের নয়। এ কারণে ব্যক্তিগত গল্প, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সাক্ষাৎকার, মতামতধর্মী লেখা কিংবা গভীর বিশ্লেষণে মানুষের ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

লেখকের কাজ কি কমে যাবে?
কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে তৈরি করা যায় এবং নতুন চিন্তার প্রয়োজন তুলনামূলক কম—এমন পুনরাবৃত্তিমূলক লেখার কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়তে পারে।

ফলে শুধু সাধারণ কনটেন্ট তৈরির ওপর নির্ভরশীল লেখকদের প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে একই সঙ্গে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের কাজ। এআইয়ের তৈরি লেখা সম্পাদনা, তথ্য যাচাই, ভাষাকে স্বাভাবিক করা এবং কোনো ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট কণ্ঠস্বর বজায় রাখার মতো দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে।

অর্থাৎ লেখকের কাজ হয়তো হারিয়ে যাবে না; বরং কাজের ধরন বদলে যাবে।

এআইয়ের সঙ্গে কাজ করাই হতে পারে ভবিষ্যৎ
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি চারজন কর্মীর একজন এমন পেশায় আছেন, যেখানে জেনারেটিভ এআইয়ের কোনো না কোনো মাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে চাকরি পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার চেয়ে কাজের ধরন পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

২০২৬ সালের আইএলও গবেষণাতেও ব্যাপকভাবে চাকরি হারানোর প্রমাণ সীমিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং কর্মীদের কাজের ধরন, উৎপাদনশীলতা এবং কর্মক্ষেত্রের সংগঠনে পরিবর্তন আসছে। একই সঙ্গে তরুণ ও নতুন কর্মীদের জন্য কিছু ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে।

এর অর্থ, ভবিষ্যতের একজন লেখক হয়তো শুধু লেখক থাকবেন না। তাকে একই সঙ্গে এআই ব্যবহারকারী, গবেষক, সম্পাদক ও তথ্য যাচাইকারী হিসেবেও দক্ষ হতে হবে।

নতুন দক্ষতা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন
এআইয়ের যুগে লেখকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে কাজে লাগানো শেখা।

শুধু সুন্দর লিখতে পারা হয়তো ভবিষ্যতে যথেষ্ট হবে না। এআইকে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়া, তৈরি তথ্য যাচাই করা, ভালো ও দুর্বল লেখার পার্থক্য বোঝা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এআইয়ের লেখা সম্পাদনা করার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এর পাশাপাশি সৃজনশীল চিন্তা, গবেষণা, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং কোনো বিষয়কে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার ক্ষমতার মূল্য আরও বাড়তে পারে।

তাহলে লেখকদের ভবিষ্যৎ কী?
সম্ভবত ভবিষ্যতের সবচেয়ে সফল লেখক তিনি নন, যিনি শুধু দ্রুত লিখতে পারেন। বরং তিনি, যিনি এআইয়ের গতি ও নিজের চিন্তা, গবেষণা এবং সৃজনশীলতাকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারেন।

এআই একটি খসড়া তৈরি করে দিতে পারে। কিন্তু সেই খসড়াকে বিশ্বাসযোগ্য, প্রাসঙ্গিক ও পাঠযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব মানুষের।

তাই ভবিষ্যতের লড়াই হয়তো মানুষ বনাম এআইয়ের নয়। বরং লড়াইটা হবে এআইকে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন এমন লেখক এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি—এমন লেখকের মধ্যে।

এআই লেখার জগতে বড় পরিবর্তন আনছে। কিছু প্রচলিত কাজ কমবে, কিছু কাজের ধরন বদলাবে এবং নতুন কাজও তৈরি হবে।

তাই প্রশ্নটি শুধু ‘লেখকদের চাকরি থাকবে কি না’ নয়। আসল প্রশ্ন হলো—এআইয়ের যুগে একজন লেখক নিজেকে কতটা বদলাতে পারবেন?

কারণ প্রযুক্তি হয়তো লিখতে শিখছে। কিন্তু কী লিখতে হবে, কেন লিখতে হবে এবং সেই লেখার দায় কে নেবে—এই সিদ্ধান্ত এখনো মানুষের হাতেই।

স্বদেশ প্রতিদিন/আরএম



আরও সংবাদ   বিষয়:  এআই ভবিষ্যতেরচাকরি  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close