বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান সম্ভব      যুবসমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব: সাচিং প্রু      সনদের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন জরুরি: শ্রমমন্ত্রী      ৮ মাসে পেরিয়ে গেলেও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া জায় নেই      বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ       একাদশের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন      ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের      শরণখোলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ      রৌমারীতে উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন      কপোতাক্ষে মিলল ভ্যানচালক ইখলাসের মরদেহ      টাঙ্গাইল সেতুর প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ      মিছিলের চেষ্টা, ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আটক      
সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছও
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৩ AM

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামে অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে ডিম ও সবজির দাম নতুন করে বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৪ টাকা। আর এক ডজন ডিমের দাম দাঁড়িয়েছে ১৬৫ টাকা। চারটি ডিম কিনলেও দিতে হচ্ছে ৫৫ টাকা।

শুধু ডিম নয়, বাজারে অধিকাংশ সাধারণ সবজির দামও বেড়েছে। বিভিন্ন সবজির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম দেখা গেছে। পাশাপাশি মাছও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগি ও গরুর মাংসের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারভেদে একই পণ্যের দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ সবজির দামই আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

বাজারে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে শসা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।

বর্ষা মৌসুমে বাজারে আসা আগাম শিমের দামও বেশ চড়া। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। সবজির মধ্যে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, যার কেজি ৪০ টাকা।

এদিকে আবারও বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি।

দামি সবজির তালিকায় রয়েছে লম্বা বেগুন, গোল বেগুন ও টমেটো। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম প্রায় ৮০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে কিছু শাক তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। লাল শাক ও কলমি শাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা, ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সবজির দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। এক ক্রেতা বলেন, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ৮০ টাকার নিচে এখন খুব কম সবজি পাওয়া যাচ্ছে। টমেটো, বেগুন কিংবা করলার মতো সাধারণ সবজি কিনতেও কেজিপ্রতি ১০০ টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

তার ভাষায়, যারা দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করেন, তাদের জন্য একই সঙ্গে মাছ, সবজি ও চাল কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। রাজধানীর বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৬৫ টাকা এবং চারটি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ খুচরা হিসাবে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৪ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, ডিমের দাম কমার কোনো লক্ষণ তারা দেখছেন না।

মুরগির বাজারে অবশ্য তুলনামূলক স্থিতিশীলতা রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও আগের মতোই রয়েছে; প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকা।

এদিকে মাছের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া মাছ ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা প্রায় ৭০০ টাকা কেজি। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা কেজিতে। পোয়া মাছের দাম ২৬০ টাকা এবং শোল মাছের দাম প্রায় ৭০০ টাকা কেজি। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের মতো তুলনামূলক চাহিদাসম্পন্ন মাছ কিনতে গেলে প্রতি কেজিতে ১ হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে। মাছের আকার, মান এবং জীবিত না মৃত—এসবের ওপর দামের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। একই মাছের ক্ষেত্রেও বাজার ও সরবরাহ অনুযায়ী কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কম-বেশি হতে পারে।

বিক্রেতাদের মতে, বাজারে সরবরাহ কমে গেলে কিংবা বড় আকারের মাছের চাহিদা বাড়লে দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে। ফলে ডিম ও সবজির বাড়তি দামের সঙ্গে মাছের চড়া দামও ক্রেতাদের দৈনন্দিন বাজার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ডিম, সবজি ও মাছের বাজারে বাড়তি দামের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার সামলানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।


স্বদেশ প্রতিদিন/আরএম


আরও সংবাদ   বিষয়:  আজকেরবাজার দ্রব্যমূল্য  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close