প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য কীভাবে কাজ করে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এই বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান Meta Platforms-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিভিন্ন ফিচার ও অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখতে পারে। এর ফলে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন পক্ষ।
মেটার বিরুদ্ধে শুধু আসক্তি তৈরির অভিযোগই নয়, অপ্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য সংগ্রহ এবং অনলাইন গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলের অ্যাটর্নি জেনারেলরা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্সের অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি সমঝোতার দিকে এগিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতার আওতায় মেটাকে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানাই দিতে হবে না, প্ল্যাটফর্মের কিছু কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এর মধ্যে কিশোর-কিশোরীদের দৈনিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ, রাতে স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এমন কিছু ফিচার পরিবর্তন বা বাতিল করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে।
তবে এই সমঝোতার মধ্য দিয়েই মেটার বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি লড়াই শেষ হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের করা আরও কয়েকশ মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। ফলে শিশু ও কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব নিয়ে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষতিপূরণের দাবি মেটাতে মেটা সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৭১০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। এত বড় অঙ্কের সম্ভাব্য অর্থপ্রদান প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো কীভাবে তাদের অ্যালগরিদম ও ডিজাইন ব্যবহার করে, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে, সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আইনি পদক্ষেপের প্রভাব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি তৈরির নকশা নিয়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির ওপরও আরও কঠোর জবাবদিহির চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীদের ধরে রাখার জন্য অ্যালগরিদম ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টিও আরও গুরুত্ব দিতে হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আরএম