প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১:২৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে। খসড়াটিতে টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অংশীজন এবং সাধারণ নাগরিকরা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিভাগের ওয়েবসাইটে গিয়ে মতামত দিতে পারবেন।
খসড়া অধ্যাদেশে মূল বিধান ও শাস্তিসমূহ হলো:
অশ্লীল বা অশোভন বার্তা প্রেরণ: ধারা ৬৯ অনুযায়ী, টেলিযোগাযোগ বা বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে অশ্লীল, ভীতিকর, অপমানজনক বা অশোভন বার্তা, ছবি বা ভিডিও প্রেরণে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১.৫ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বারবার ফোন করে বিরক্ত করা: ধারা ৭০ অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কাউকে বারবার ফোন করে বিরক্ত করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। শাস্তি হিসেবে এক লাখ টাকা জরিমানা বা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।
বেআইনিভাবে আড়ি পাতা: বেআইনিভাবে আড়ি পাতার ক্ষেত্রে দুই বছরের কারাদণ্ড বা দেড় কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা যেমন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন মেসেজিং এবং ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ, সবই সরকারের অনুমোদনের আওতায় আসবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে নিবন্ধন নিতে হবে এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তা সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
এছাড়া, অনুমতিহীনভাবে টেলিযোগাযোগ সেবা বা বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার প্রয়োজনে সরকার যেকোনো প্ল্যাটফর্ম স্থগিত বা বন্ধ করতে পারবে।
খাতটিতে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশন’ গঠিত হবে। পাঁচ সদস্যের এই কমিশন লাইসেন্স প্রদান, নীতিনির্ধারণ, স্পেকট্রাম বণ্টন এবং প্রযুক্তিগত মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবে।