
ভালুকায় কলা চাষে সাফল্য, বদলে যাচ্ছে কৃষকদের জীবন
ময়মনসিংহের ভালুকায় কলা চাষে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। এক সময় সীমিত আকারে চাষ হলেও এখন তা রূপ নিয়েছে বাণিজ্যিক আকারে। স্থানীয় কৃষকরা শুধু কলা বিক্রি করেই নয়, কলার চারা বিক্রি করেও আয় করছেন দ্বিগুণ। ফলে কৃষকেরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এলাকার অন্য চাষিরাও।
উপজেলার উথুরা, ডাকাতিয়া ও হবিরবাড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজ কলাবাগান। উঁচু ও সমতল জমি লিজ নিয়ে অনেকেই শুরু করেছেন বাণিজ্যিক কলা চাষ। তৈরি হচ্ছে একের পর এক সফলতার গল্প। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ভালুকায় ৩২০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।
ধলিকুড়ি এলাকার চাষি মশিউর রহমান জানান, এক একর জমিতে চাষ করতে জমির ভাড়া, চারা, সার, শ্রম ও অন্যান্য খরচ মিলে প্রায় তিন লাখ টাকা লাগে। এ বছর প্রতি একরে কলা বিক্রি থেকে আয় হচ্ছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। এর পাশাপাশি চারা বিক্রি থেকেও অতিরিক্ত আয় করছেন তারা। তার ভাষায়, কলা চাষ এখন লোকসানের ভয় নয়, বরং নিশ্চিত লাভের একটি পেশা।
ভালুকায় বর্তমানে সবরি, চিনিচাম্পা, রঙিন সাগর ও জি-৯ (G-9) জাতের কলা চাষ হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস (GAP) অনুসরণ ও ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি কলা থেকে চিপস, জ্যাম ও জেলি তৈরি করে স্থানীয়ভাবে প্রসেসড পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারবেন।
চাষিরা বলছেন, কলা একটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ফসল। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম, ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লোকসানের ঝুঁকিও কম থাকে। তাদের দাবি, কৃষি বিভাগ যদি সহজ শর্তে প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ সহায়তা দেয়, তাহলে তারা দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও কলা রপ্তানি করতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত জামান বলেন, এ বছর ভালুকায় ৩২০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন কলা উৎপাদিত হয়েছে। এটি একটি লাভজনক কৃষি ফসল। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। সরকারি প্রণোদনা পেলে আরও অনেক কৃষক কলা চাষে আগ্রহী হবে।
পুষ্টিবিদদের মতে, কলা ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারের অন্যতম ভালো উৎস। দেশে সুপার শপ, স্থানীয় বাজার ও পাইকারি বাজারে কলার স্থায়ী চাহিদা রয়েছে। কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভালুকার কলা একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে।