| শিরোনাম: |

বাবার নামে থাকা বিদ্যুৎ মিটার নিজের বা সন্তানের নামে নিতে এখন আর তেমন ঝামেলা নেই। প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র প্রস্তুত রাখলেই সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে নাম পরিবর্তনের কাজটি করা সম্ভব। এতে সময়ও কম লাগে এবং অতিরিক্ত খরচও হয় না।
বিদ্যুৎ মিটারের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন বাবার মৃত্যু সনদ, যা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এরপর পরিবারের সব সদস্যের নামসহ একটি ওয়ারিশ সনদ নিতে হবে। এছাড়া অন্য ওয়ারিশদের কাছ থেকে লিখিত ‘না-দাবি’ চিঠি সংগ্রহ করতে হবে, যেখানে তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করবেন যে মিটারের ওপর তাদের কোনো দাবি নেই। এই চিঠি ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সত্যায়িত করতে হয়।
সব কাগজপত্র প্রস্তুত করার পর আবেদনকারীকে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও মিটারের সর্বশেষ বিলের ফটোকপি নিয়ে নিকটস্থ বিদ্যুৎ অফিসে যেতে হয়। সেখানে নির্ধারিত আবেদন ফর্ম পূরণ করে সব কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এরপর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়। ফি জমা দেওয়ার পর রসিদটি সংরক্ষণ করা জরুরি।
বিদ্যুৎ অফিস আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যাচাই করে। অনেক সময় কর্মকর্তারা সরাসরি মিটারের স্থানে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। সব কিছু ঠিক থাকলে এবং কোনো আপত্তি না থাকলে মিটারটি নতুন নামে হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে অনেক সংস্থা অনলাইনে নাম পরিবর্তনের সুযোগও দিচ্ছে। যেমন—ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) আওতাভুক্ত গ্রাহকেরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন https://onlineapplication.dpdc.org.bd লিংকের মাধ্যমে। একইভাবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকেরা আবেদন করতে পারেন https://newconnection.rebpbs.com/NewConnectionApplication/Apply লিংকে গিয়ে।
তবে আবেদন করার আগে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি ও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে সময় বাঁচে এবং কোনো জটিলতা হয় না। সঠিক তথ্য, যথাযথ কাগজপত্র ও সতর্কতা অবলম্বন করলে বাবার নামের বিদ্যুৎ মিটার নিজের নামে করা একদমই ঝামেলামুক্ত প্রক্রিয়া।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ