
কোরিয়ান নারীদের উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক নিয়ে আগ্রহ রয়েছে বিশ্বজুড়ে। কে-বিউটি বা কোরিয়ান বিউটি ট্রেন্ড এরই মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে শুধু প্রসাধনী বা রূপচর্চা নয়, খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত স্কিন কেয়ার রুটিনকেও ত্বকের যত্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়।
ত্বকের সৌন্দর্যের সঙ্গে শরীরের অভ্যন্তরীণ সুস্থতার সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে কোরিয়ানদের খাদ্যাভ্যাসেও বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবারের উপস্থিতি দেখা যায়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সাইট্রাস ফল, বেরি ও সবুজ শাকসবজি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভিটামিন সিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।
ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতেও কোলাজেনের ভূমিকা রয়েছে। এটি ত্বক, চুল ও নখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রোটিন। কোরিয়ানদের বিউটি ডায়েটে কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। এটি ত্বকের হাইড্রেশন ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে এবং বলিরেখা কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্যামন ও ম্যাকেরেলের মতো ফ্যাটযুক্ত মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব পায়। যারা পর্যাপ্ত মাছ খান না, তাদের কেউ কেউ ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন। তবে যেকোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে প্রয়োজন ও উপযোগিতা বিবেচনা করা জরুরি।
কোরিয়ানদের রূপচর্চার সঙ্গে চাল ধোয়া পানির ব্যবহারের কথাও প্রচলিত। চাল ধোয়া পানি দিয়ে মুখ ধোয়া এবং ভাতের মাড় দিয়ে চুল ধোয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এতে ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
৭ ধাপের কোরিয়ান স্কিন কেয়ার রুটিন
১. ক্লেনজিং: রুটিনের প্রথম ধাপে ত্বক পরিষ্কার করা হয়। ডাবল ক্লেনজিংয়ে প্রথমে অয়েল বেইজড ক্লেনজার দিয়ে ত্বকের সিবাম ও ময়লা পরিষ্কার করা হয়। এরপর ফোম ক্লেনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া হয়।
২. এক্সফোলিয়েশন: ত্বকের মৃতকোষ ও ময়লা পরিষ্কার করতে এক্সফোলিয়েশন করা হয়। ব্ল্যাক সুগার ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি না করে আলতো হাতে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩. টোনিং: ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে টোনার ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন টোনারে বোটানিক উপাদান, হায়ালুরনিক অ্যাসিড, দুধ বা টি-ট্রি উপাদান থাকতে পারে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী টোনার বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৪. অ্যাসেন্স: কোরিয়ান স্কিন কেয়ারের অন্যতম পরিচিত ধাপ হলো অ্যাসেন্স। সাধারণত উদ্ভিদ নির্যাস ও ফারমেন্টেড উপাদান ব্যবহার করে তৈরি বিভিন্ন অ্যাসেন্স ত্বকে আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ব্যবহৃত হয়।
৫. শিট মাস্ক: বেরি, মধু, অ্যালোভেরা, টমেটো বা গ্রিন টিসহ বিভিন্ন উপাদানযুক্ত শিট মাস্ক ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট মুখে রাখার পর এটি সরিয়ে ফেলা হয়।
৬. ময়েশ্চারাইজিং: ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়। ক্রিম, জেল, অ্যালোভেরা বা ওভারনাইট মাস্কসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এ কাজে ব্যবহার করা হয়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া উচিত।
৭. সানস্ক্রিন: কোরিয়ান স্কিন কেয়ারের শেষ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেওয়া। বাইরে বের হওয়ার আগে উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফিজিক্যাল ও কেমিক্যাল—দুই ধরনের সানস্ক্রিনই ব্যবহার করা হয়।
তবে ত্বকের ধরন ও সংবেদনশীলতা ব্যক্তি ভেদে আলাদা। তাই নতুন কোনো স্কিন কেয়ার পণ্য বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে উপাদানগুলো সম্পর্কে জানা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি