প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ পিএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২৬ ৮:০৯ PM

ব্যস্ত জীবনে পর্যাপ্ত ও শান্তিপূর্ণ ঘুম পাওয়া অনেকের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘুমের জন্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের পাশাপাশি রাতের খাবারের বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি। কারণ কিছু খাবার ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, রাতে ভালো ঘুমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে কোন খাবারগুলো—
- ১. ক্যাফেইন: ঘুমের বড় বাধা
ক্যাফেইন ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কফি, চা, কোমল পানীয় ও চকলেটের মতো খাবার ও পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে।
- ২. অ্যালকোহল: ঘুম আনলেও তৈরি করতে পারে সমস্যা
অ্যালকোহল খাওয়ার পর অনেকের দ্রুত ঘুম চলে আসতে পারে। তবে এটি ঘুমের স্বাভাবিক ধরণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ফলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা ঘুমের মান কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- ৩. ঝাল বা মশলাদার খাবার: বাড়াতে পারে পেটের অস্বস্তি
রাতে ঝাল বা মশলাদার খাবার খেলে কারও কারও গ্যাস, বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হতে পারে। এসব অস্বস্তি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে অতিরিক্ত ঝাল খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
- ৪. ভাজা বা চর্বিযুক্ত খাবার: হজমে সময় লাগে বেশি
ভাজা ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। রাতে এসব খাবার খেলে পেটে ভারী লাগা বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, যা ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
- ৫. অতিরিক্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: হতে পারে অস্বস্তির কারণ
প্রোটিন শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিন খেলে হজমে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খেলে ঘুমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- ৬. সাইট্রাস ফল: বাড়াতে পারে অস্বস্তি
কমলা, লেবু ও অন্যান্য সাইট্রাস জাতীয় ফল কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। রাতে এসব সমস্যা দেখা দিলে ঘুম ব্যাহত হতে পারে।
- ৭. চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: ঘুমের জন্য ভালো নয়
অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রায় দ্রুত পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খেলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
সমাধান
রাতে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ভারী, অতিরিক্ত ঝাল, তেলযুক্ত ও মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। পাশাপাশি হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। পর্যাপ্ত ও আরামদায়ক ঘুমের জন্য নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলার পাশাপাশি নিজের শরীর কোন খাবারে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ