
ব্লাড ক্যানসার সব সময় স্পষ্ট বা গুরুতর কোনো উপসর্গ দিয়ে শুরু হয় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে এর লক্ষণগুলো সাধারণ শারীরিক অসুস্থতা বা দৈনন্দিন ক্লান্তির মতো মনে হতে পারে। ফলে এসব পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ভারতের চিকিৎসক ডা. নিতিন আগরওয়ালের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ক্লান্তি না কমা, ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া, নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া জ্বর, শরীরে অস্বাভাবিক কালচে বা নীলচে দাগ এবং লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ ব্লাড ক্যানসারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা ও মাল্টিপল মায়েলোমাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার রক্ত, অস্থিমজ্জা বা লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। এসব অঙ্গ ও টিস্যু রক্তকোষ তৈরি, সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের ক্যানসারের উপসর্গ শরীরের বিভিন্ন অংশে দেখা দিতে পারে।
বিনা কারণে রক্তপাত বা কালচে দাগ
কোনো আঘাত বা স্পষ্ট কারণ ছাড়াই শরীরে নীলচে বা কালচে দাগ পড়া, ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি থেকে রক্তপাত কিংবা অস্বাভাবিকভাবে বেশি রক্তপাত হলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। অস্থিমজ্জায় অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি হলে স্বাভাবিক রক্তকোষ ও প্লাটিলেটের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অস্বাভাবিক ও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
স্বাভাবিক পরিশ্রমের পর যে ক্লান্তি হয়, তা বিশ্রাম বা ঘুমের পর সাধারণত কমে যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি ক্লান্তি থেকে যায় এবং তা দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্লাড ক্যানসারের ক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার কারণে এমন অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
ঘন ঘন সংক্রমণ বা জ্বর
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে বারবার সংক্রমণ হতে পারে। একইভাবে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার জ্বর আসাও শরীরে কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ ঘন ঘন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
লিম্ফ নোডসহ অন্যান্য পরিবর্তন
লিম্ফ নোড বা লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া ব্লাড ক্যানসারের অন্যতম সম্ভাব্য উপসর্গ। এর পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত ঘাম, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, হাড়ে ব্যথা, পেটে অস্বস্তি বা পেট ভরা ভরা অনুভূতিও দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে লিম্ফোমার ক্ষেত্রে জ্বর, রাতের ঘাম এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়াকে ‘বি সিম্পটম’ বলা হয়। তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই যে ব্লাড ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়।
চিকিৎসকদের মতে, একই ধরনের লক্ষণ বিভিন্ন সাধারণ অসুস্থতার কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই শুধু উপসর্গের ভিত্তিতে নিজে নিজে ক্যানসার নির্ণয়ের চেষ্টা করা উচিত নয়। কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সঠিক পদক্ষেপ। যথাযথ পরীক্ষা ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের মাধ্যমেই ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি