প্রকাশ: শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৪৯ পিএম আপডেট: ২৫.১০.২০২৫ ৩:৫৯ PM

ধারাবাহিক দীপাবলি উৎসবে ব্যবহৃত হাতে বানানো কার্বাইড বন্দুক, ‘দিওয়ালি খেলনা’, ব্যবহার করে পটকা ছোড়ার ঘটনায় ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও বিহারে কমপক্ষে ৬৪ জন শিশু-কিশোরের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে হারিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এছাড়া ওই তিনদিনে শতশত শিশু চক্ষু-আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে; ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে অন্ধ হওয়ার সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর দীপাবলি উদযাপনের পর ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশে তিন দিনে শতাধিক শিশু-কিশোর চক্ষু-আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়; তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১৪ জনের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে না আসার আশঙ্কা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিহারের রাজধানী পাটনায় কমপক্ষে ৫০ জন স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে বলে জানায় স্থানীয় চিকিৎসকেরা।
কার্বাইড বন্দুক (বা ‘দিওয়ালি খেলনা’) হলো ঘরে তৈরি নলাকৃতির একটি যন্ত্র এর ভেতরে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও পানি দিয়ে পটকা তৈরি করা হয় এবং একটি লিভার-ট্রিগারের মাধ্যমে পটকা উৎক্ষেপণ করে। তবে লিভার চাপ দিলে কখনো কখনো পটকা কয়েক সেকেন্ড পরে বিস্ফোরিত হয়; সেই সময় যদি কেউ নলে বা বন্দুকের মুখের দিকে চোখ নিয়ে তাকিয়ে থাকে, তাহলে আকস্মিক বিস্ফোরণে কর্নিয়া, আইরিস ও রেটিনা গুরুতরভাবে পুড়ে যেতে পারে ফলশ্রুতিতে অনিবার্য স্থায়ী অন্ধত্বের ঘটনা ঘটে।
ভোপালের হামিদিয়া হাসপাতালে ভর্তি ১৭ বছর বয়সী নেহা (নামের প্রথমাংশ) এনডিটিভিকে বলেন, “দীপাবলীর দিন আমরা একটি কার্বাইড বন্দুক নিয়ে পটকা ফাটাচ্ছিলাম; হঠাৎ আমার এক চোখে আঘাত লাগে আমি ওই চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।” ভোপাল মেমোরিয়াল হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের চক্ষুবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডা. হেমলতা যাদব স্থানীয় দৈনিক জাগরণকে বলেছেন, “কার্বাইড বন্দুক শুধু পটকা-ছোঁড়া যন্ত্র নয় এটি আসলে একপ্রকার রাসায়নিক বোমা।”
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন যে বিস্ফোরণের তীব্রতায় চোখের মেকানিক্যাল ও রসায়নিক ক্ষতি হলে কর্ণিয়া ও রেটিনার সার্জারি দিয়েও আগের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়; অনেকক্ষেত্রে স্থায়ী অন্ধত্ব এড়ানো যায় না।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মধ্যপ্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের বন্দুক অবৈধভাবে তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে; স্থানীয় মার্কেটে এগুলোর দাম মাত্র ১৫০-২০০ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০৯–২৭৮ টাকা) হওয়ায় শিশুদের কাছে এগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তবে চিকিৎসকেরা এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাম ‘খেলনা’ হলেও এগুলো প্রাণঘাতী এবং ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
বিশেষত উৎসবকালে শিশুদের পটকা নিয়ে নিরাপদ আচরণ, প্রাপ্তবয়স্ক পর্যবেক্ষণ এবং অবৈধ কার্বাইড বন্দুক নির্মাণ-বিক্রয় বন্ধে কড়াকড়ি জরুরি বলে বিজ্ঞজনরা মনে করছেন।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে