
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবর্তে অংশীদার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। স্থানীয় সময় ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত বক্তব্যে সি চিনপিং বলেন, ‘আমাদের দুটি দেশ প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প সি চিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে অভ্যর্থনা জানান। লালগালিচায় দুই নেতা করমর্দন করেন। এরপর সি চিনপিং তাঁর লিখিত বক্তব্যে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সি চিনপিং বলেন, দুই দেশের উচিত সহযোগিতাকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরে, সীমিত প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রণযোগ্য মতপার্থক্য এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নতুন যুগে দুটি বড় দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনার একটি সঠিক পথ খুঁজে বের করা।
চীনা প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, চীনা জাতির পুনরুত্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করার লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে এবং উভয় পক্ষ একে অপরের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে।
সি চিনপিং জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা করতে আগ্রহী। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতার পরিসর আরও বাড়ানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
দুই নেতার বৈঠকে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে মতপার্থক্য, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এবং ইরানকে ঘিরে চীনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও কৌশলগত টানাপোড়েনও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফরে সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সংলাপ বাড়ানো, মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণ এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণ সফরের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সি চিনপিং বলেন, বিশ্বের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রয়োজনীয়তা এবং দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের ভিত্তি অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় তাঁর এ সফর দুই দেশের জনগণের কল্যাণে অবদান রাখবে এবং বিশ্ব শান্তির জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি