প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৭ পিএম

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে আজ থেকে উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল শুরু হচ্ছে। এদিন সূর্য পৃথিবীর বিষুবরেখা অতিক্রম করবে। ফলে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের আলো প্রায় সমানভাবে পাওয়ায় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যও কাছাকাছি সমান হবে। এই মহাজাগতিক ঘটনাকে বলা হয় ‘শরৎ বিষুব’।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে নতুন করে শরৎকাল শুরু হচ্ছে না। বাংলা ঋতুচক্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে এরই মধ্যে শরৎকাল চলছে। ‘শরৎ বিষুব’ মূলত উত্তর গোলার্ধের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউরোপসহ উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন দেশে এই দিনকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে শরতের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনিচের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ভোর ১টা ৬ মিনিটে বিষুব ঘটবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী তখন সকাল ৬টা ৬ মিনিট। এই সময় সূর্য পৃথিবীর বিষুবরেখার ওপর অবস্থান করবে।
বিষুবের সময় পৃথিবীর দুই গোলার্ধ সূর্যের আলো প্রায় সমানভাবে পায়। এ কারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য কাছাকাছি সমান হয়। তবে দিন ও রাত ঠিক ১২ ঘণ্টা করে হয় না।
এর একটি কারণ হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সূর্যের আলো কিছুটা বাঁক নেয়। ফলে সূর্য ওঠার আগেই আলো দেখা যায় এবং সূর্য ডুবে যাওয়ার পরও কিছু সময় আকাশে আলো থাকে। এ কারণে বাস্তবে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যে সামান্য পার্থক্য থাকে।
শরৎ বিষুবের পর উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তবে বিষুবের দিন থেকেই আবহাওয়ায় হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন আসে না। দিনের দৈর্ঘ্য কমার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনও ধীরে ধীরে ঘটে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কৃতিতেও বিষুবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জে প্রতি বছর শরৎ বিষুব উপলক্ষে অনেকে জড়ো হন এবং সূর্যোদয় দেখেন। ফলে এই দিনটি বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের পাশাপাশি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি