প্রকাশ: রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৩০ AM

বাংলাদেশ প্রিয় ওয়ানডে সংস্করণে জয় ভুলে যাচ্ছিল। কারণ, গত ১৩ ম্যাচে কেবল একবারই জয় দেখেছিলো দল। আজও যেন হারই ছিল চোখে চোখে–তবে টানা চার পরাজয়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুস্তাফিজুর রহমানরা আজ জয়ের মুখ দেখালেন।
মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ, যা আধুনিক ক্রিকেটে তুলনামূলকভাবে সহজ ধরা হয়। উদ্বোধনী জুটিতে ৫১ রান যোগ করে লক্ষ্যটিকে আরও সহজ করেছেন দুই ওপেনার অ্যালিক অ্যাথানাজে ও ব্র্যান্ডন কিং। এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হলো কিছু সত্যিই অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব।
মিরপুরের কালো উইকেটের সহায়তা নিয়ে অবিশ্বাস্য কিছুই করলেন রিশাদ হোসেন। লেগস্পিনের মায়াজাল তৈরি করলেন ২৩ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। তাতে একে একে প্রথম ৫ উইকেট শিকার করলেন তিনি। ১ উইকেটে ৭৯ রান করা দলটাই একটা সময় ৯২ রানে ৫ উইকেটে হারিয়ে বসে।
তাতে জয় নয় হারের শঙ্কায় পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষে সেটিই হয়েছে। রিশাদের সঙ্গে পরে উইকেট উদযাপনে মাতেন মুস্তাফিজ-মিরাজরা। পরে ১৩৩ রান তুলতেই ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস গুটিয়ে যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ উইকেট নিয়ে ইনিংসও মুড়িয়ে দেন রিশাদই। তাতে ৩৫ রান খরচ করে ৬ উইকেট নেন তিনি।
এই প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেট পেয়েছেন রিশাদ। এমন কীর্তি গড়ার পথে একটা রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। বাংলাদেশের ডানহাতি স্পিনার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। আগের রেকর্ডটি ছিল রাজিন সালেহর। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন অফস্পিনার।
এছাড়া বাংলাদেশের প্রথম স্পিনার হিসেবে ৬ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন রিশাদ। সব মিলিয়ে চতুর্থ বোলার হিসেবে এই রেকর্ড গড়েছেন। তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওয়ানডেতে ২০৭ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। দলের হয়ে ফিফটি করেছেন তাওহিদ হৃদয়। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন করেছেন ৪৬ রান। এছাড়া ২০০ স্ট্রাইক রেটে ২৬ রান করা রিশাদও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/নিয়াজ