ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ পরিচালনার জন্য শাসকগোষ্ঠীকে বিগত সরকারের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতন হতে হবে। সকল বিভেদের ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজেদের জনগণের সেবক হিসেবে পরিচয় দিতে হবে। সম্মিলিত নারী প্রয়াসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্বে শাসক নয় সেবক চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্লাবে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরিন আমিন মোনামি বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিগত সময়ে আমাদের মধ্যে নানাভাবে বিভেদ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আমাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। আমাদেরকে গ্রাম্য-শহুরে, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, শাপলা-শাহবাগ ইত্যাদি নানা শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। যার ফলে আমাদের শোষণ করা শাসকগোষ্ঠীর জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিলো।”
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা নিজেকে নারীদের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করতেন। কিন্তু তিনি কোন শ্রেণির নারীদের প্রতিনিধি তা কখনো বলতেন না। আর তিনি আদৌ সমগ্র নারীদের প্রতিনিধি হতে পারেননি। আমরা কেমন শাসক চাই তা আমাদেরই নির্ধারণ করতে হবে। কেবল ব্যক্তির নাম কিংবা মার্কা দেখে নয়, বরং কাজ দেখে আমাদের শাসক নির্বাচন করতে হবে।”
বুয়েটের এমএমই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাকিয়া আনা ফখরুল বলেন, “বিগত সময়ে বাংলাদেশে ইসলামফোবিয়া গুরুতর রূপ লাভ করেছে। নতুন যে ব্যক্তি ক্ষমতায় আসবেন তিনি রাতারাতি এই ইসলামফোবিয়া দূর করতে পারবেন না। কিন্তু তাকে এই বিষয়ে এড্রেস করতে হবে। পাশাপাশি, তাকে একাউন্টেবল, ভিশনারি ও ফরওয়ার্ড থিংকিং এবিলিটি নিয়ে কাজ করতে হবে।”
ঢাবির জিনপ্রকৌশল ও জিনপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “একজন শাসকের বিশেষ গুণাবলির মধ্যে আমরা যেটা চাই তা হলো আধিপত্যবাদ বিরোধী, আইনের রক্ষক, সার্বভৌমত্বের ধারক, দূর্নীতিহীন ইত্যাদি। তাদের অবশ্যই ইনক্লুসিভ, দায়িত্ববান এবং সচেতন হতে হবে।”
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, “অতীতে সমাজের মধ্যে যারা যোগ্য, তাদেরই শাসক নির্বাচিত করা হতো। তখন জনসংখ্যা কম ছিলো, যে কারণে এটি তুলনামূলক সহজ ছিলো। কিন্তু বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় এভাবে হয়তো সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন, “আমাদের জনগণ খুবই সচেতন। তারা চাইলেই যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে পারে। কিন্তু দুর্নীতির থাবায় তারা তা পারেন না। টাকা দিয়ে তাদের ভোট কিনে নেওয়া হয়। একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন আমাদের বহুদিনের দাবি।”
কেমন শাসক চাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা মিশ্র শাসক চাই। যারা জনগণের সেবা করবেন আবার অপরাধীদের শাসনও করবেন। এজন্য কয়েকটা দিকে নজর দিতে হবে। তা হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কেউ গেলেই তিনি যোগ্য শাসক হয়ে উঠতে পারবেন।”