প্রকাশ: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫, ২:০৩ AM

রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় আগুনে পুড়ে যাওয়া কেমিক্যাল গুদামে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে। ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট জানিয়েছে, গুদামের ভেতরে গ্যাসের মাত্রা ছিল ১৪৯ পিপিএম, যা মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণঘাতী। সাধারণত ১০০ পিপিএমের বেশি হাইড্রোজেন সালফাইড মাত্রা থাকলে মানুষ অচেতন হয়ে মারা যেতে পারে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের দলনেতা, সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান। তিনি জানান, “গতকাল গুদামের ভেতরে গ্যাসের মাত্রা ছিল ২০ পিপিএমের ওপরে, যা আগের তুলনায় বিপজ্জনক। আজ এটি বেড়ে ১৪৯ পিপিএমে পৌঁছেছে। ১০০ পিপিএমের বেশি মাত্রা মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে অচেতন করতে পারে।”
মাহমুদুজ্জামান আরও বলেন, হাইড্রোজেন সালফাইডের এই মাত্রা যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া গুদামের ভিতরে প্রবেশ করা জীবনঝুঁকিপূর্ণ। গ্যাসের বিস্তার রোধ করতে আশপাশের ১৫০-৩০০ মিটার এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। বাতাসের সঙ্গে গ্যাসের চলাচল হলে অন্তত দেড় কিলোমিটার এলাকা ফাঁকা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গুদামের ভেতরে এখনও বেশ কিছু রাসায়নিক বস্তা পড়ে আছে। গুদামের বাইরে হাইড্রোজেন সালফাইডের মাত্রা বর্তমানে ৭০-৮০ পিপিএম, এবং কার্বন মনো-অক্সাইড মাত্রা প্রায় নেই। তবে আজ গুদামের ভিতরে সামান্য ৩ পিপিএম কার্বন মনো-অক্সাইড পাওয়া গেছে।
মাহমুদুজ্জামান মনে করিয়ে দেন, “উৎসুক মানুষ এবং নিহতদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন। তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আছে। তবে এটা সাধারণ আগুন নয়, এটি কেমিক্যালের আগুন, যা কাছাকাছি গেলে প্রাণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, আশপাশের এলাকাগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে রাখা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। গ্যাসের মাত্রা বিপজ্জনক হওয়ায় বিশেষভাবে সতর্ক থাকা দরকার।
ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের কর্মকর্তারা গ্যাস ডিটেকটর ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে সতর্কতা এবং দ্রুত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আতঙ্ক ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো হচ্ছে। জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ