
ওরস্যালাইন বা ওআরএস (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, অতিরিক্ত ঘাম বা তাপে সৃষ্ট পানিশূন্যতা প্রতিরোধে কার্যকর। এটি শরীরে তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করে, এবং গ্লুকোজ, সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের জন্য মারাত্মক হতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওরস্যালাইন বিশেষ কিছু মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
১. হাইপারনেট্রেমিয়ার ঝুঁকি
গবেষণা অনুযায়ী, অতিরিক্ত ওআরএস গ্রহণের ফলে হাইপারনেট্রেমিয়া তৈরি হতে পারে। এটি এমন অবস্থা, যেখানে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। লক্ষণ হিসেবে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি, বিভ্রান্তি বা মস্তিষ্ক ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
২. ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা
ওআরএস অতিরিক্ত নিলে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। হাইপারনেট্রেমিয়া বা হাইপারক্যালেমিয়া শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে। এর প্রভাব হতে পারে ক্লান্তি, পেশী দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জীবনহুমকিস্বরূপ জটিলতা।
৩. কিডনির উপর চাপ
কিডনি রক্ত থেকে অতিরিক্ত লবণ পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত ওআরএস কিডনিকে বেশি কাজ করতে বাধ্য করে, ফলে দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। দুর্বল কিডনি রোগীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. অন্তর্নিহিত রোগ থাকা
যাদের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ বা হৃদরোগ রয়েছে, তারা ওআরএস অতিরিক্ত নিলে শারীরিক জটিলতা বাড়াতে পারেন। ওআরএসে থাকা লবণ অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং হৃদযন্ত্রের উপর চাপ সৃষ্টি হয়।
৫. রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া
ওআরএসে গ্লুকোজ থাকার কারণে অতিরিক্ত গ্রহণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন প্রতিরোধী ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
৬. গরমে বা খেলাধুলার সময় অপব্যবহার
গরমে কাজ বা খেলাধুলার সময় অনেক ক্রীড়াবিদ ওআরএস গ্রহণ করেন। ধারণা হয়, এটি অতিরিক্ত শক্তি বা সুরক্ষা দেবে। কিন্তু অতিরিক্ত গ্রহণে পেট খারাপ হতে পারে, ডায়রিয়া বা ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য ব্যাহত হতে পারে। প্রকৃত ডিহাইড্রেশন না হলে সাধারণ পানি বা স্পোর্টস ড্রিংকই যথেষ্ট।
৭. ওআরএস-এর ওপর নির্ভরশীলতা
অনেকেই ওআরএসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর হয়ে সঠিক চিকিৎসা নেন না। গুরুতর ডায়রিয়া, সংক্রমণ বা অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্যগত জটিলতার ক্ষেত্রে চিকিৎসা অপরিহার্য। ওআরএস কখনো চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো সমস্যা হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সতর্কতা: ওরস্যালাইন বা ওআরএস সঠিক পরিমাণে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে গ্রহণ করলে নিরাপদ। তবে উপরের সাত ধরনের মানুষ অতিরিক্ত ওআরএস গ্রহণে ঝুঁকিতে থাকবেন, তাই সচেতন থাকা জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ