রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ আসন। ঢাকার পার্শ্ববর্তী এবং শিল্পের নগরী খ্যাত রূপগঞ্জ উপজেলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার পর থেকে বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও জাতীয়পার্টির হ্যাভিওয়েট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এ উপজেলায়।
একসময় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী, দেশের সাবেক সেনাপ্রধান ও কেন্দ্রীয়নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পদচারণায় মুখরিত ছিল পুরো উপজেলা। বর্তমানে নির্বাচনি মাঠে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশায় উপজেলাবাসী। তবে তরুণ নেতৃত্ব খুঁজছে নতুন ভোটাররা।
আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন ৬ জন এবং জামায়াতের মনোনীত হয়েছেন একক প্রার্থী। আর প্রার্থী খুঁজে পায়নি গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ৬ জনের মধ্যে রয়েছে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান মনির, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন, জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দাউদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ আহমেদ টুটুল, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন।
অপরদিকে সারাদেশের মত জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন আনোয়ার হোসেন মোল্লা। এছাড়াও কৌশল অবলম্বন করে মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য দলগুলো।
বিজেএমইএ’র সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অগণিত হামলা এবং দুই শতাধিক মামলা মোকাবিলা করেছি। রূপগঞ্জে বিএনপির হারানো গৌরব এবং দলের ভাবমূর্তি ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছি। রূপগঞ্জ থেকে ভূমিদস্যুতা রোধ ও শিল্পায়নের স্বপ্ন বুনছি। আশা করি রূপগঞ্জের মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।”
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সামনের সারিতে থেকে কর্মীদের সাথে নিয়ে রাজপথে ছিলাম। হামলা মামলার শিকার হয়েছি, ব্যবসায়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তবু হাল ছাড়িনি। দলের দুঃসময়ে কর্মীদের ফেলে রেখে মাঠ থেকে সরে যাইনি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও রূপগঞ্জ উপজেলার নেতাকর্মীদের খোঁজ রাখাসহ কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পালন করেছি। ২৪ এর গণবিল্পবের পর দলীয় শৃঙ্খলা মেনে কাজ করেছি। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়ন করবে।”
বিএনপির জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দাউদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফ আহমেদ টুটুল বলেন, “ক্লিন ইমেজ প্রার্থী হিসেবে দল যদি মনোনয়ন দেয় তবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করে রূপগঞ্জের আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপির শক্তিকে আরো মজবুত করতে চাই। আমার দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের সেবা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। জনগণের মন বুঝার ক্ষমতা রয়েছে। তাই আমি এ আসনটিকে অনন্য মাত্রায় পৌঁছে দেব।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দ্বারা নির্যাতিত হয়েও দলের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। রূপগঞ্জ আমার আপন ঠিকানা। দল আমাকে সুযোগ দিলে রূপগঞ্জকে আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন সমৃদ্ধ করতে চাই। বেকারত্ব গোঁছাতে শিল্পকারখানায়, চাকুরি, ভূমিদস্যুতা রোধে কাজ করতে চাই।”
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি দুলাল হোসেন বলেন, “বিগত সাড়ে ১৬ বছর দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের হায়েনাদের হামলা, মামলাসহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কারাবরণ, কারা নির্যাতন পরবর্তী হাসপাতালে ডান্ডাবেরীসহ চিকিৎসার নামে নির্যাতন, বাড়ি-ঘরে হামলা, লুটপাটের শিকার হয়েছি। আমি দলের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তুলনায় বেশি নির্যাতিত।”
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, “বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ছিলাম। রূপগঞ্জের মানুষের পাশে থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপিকে সুসংগঠিত করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য রূপগঞ্জ উপহার দিব।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও রূপগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘‘জামায়াতে ইসলামী মানুষকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। জনগণ আগামী নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে রূপগঞ্জ উপজেলাকে চাঁদাবাজ, দুর্নীতি, মাদক এবং ভূমিদস্যুমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ইসলামী রীতি অনুযায়ী ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিতে সমাজ গড়তে চাই।”
এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের মনোনয়ন প্রত্যাশী নারায়ণগঞ্জ জেলার দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি কাওসার আলী এবং এনসিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র সংগঠক ইয়াসিন আরাফাত ও জাতীয় যুব শক্তির নির্বাহী কমিটির সংগঠক সাইফুল ইসলাম রোমান কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এই উপজেলায় মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। যার মধ্যে ভোটার ৪ লাখ ৫ হাজার। নারী ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন।