বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
ফ্যাসিস্টের যাতাকলে ছাত্রদলের মাসুদ, এসআই থেকে যেভাবে এএসপি
রাজু আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪০ পিএম আপডেট: ০৫.১০.২০২৫ ১২:০৪ এএম
আলী আহমেদ মাসুদ: সহকারী পুলিশ কমিশনার, গুলশান জোন

আলী আহমেদ মাসুদ: সহকারী পুলিশ কমিশনার, গুলশান জোন

বছরের পর বছর মিথ্যা মামলার ভার, পদোন্নতি বঞ্চিত এক নিরপরাধ পুলিশ কর্মকর্তা কাটিয়েছে দুর্বিষহ জীবন । রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তা অবশেষে পেয়েছেন ন্যায্য সম্মান। নাম তার আলী আহমেদ মাসুদ। এসআই থেকে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন এএসপি।

স্বদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। গল্পটা এখন হয়তো আনন্দের, কিন্তু ১ বছর ১ মাস আগে সেটি ছিল নিষ্ঠুরতার এক ভয়াবহ চিত্র।

সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে বসে এই ব্যক্তি গুলো ন্যায়ের বদলে ফ্যাসিস্টের পা চাটছিলো। ফ্যাসিস্ট হাসিনার ছায়াতলে থেকে অন্যায় ও দুর্নীতিকে শুধু লালনই করেননি বরং শিল্পে পরিণত করেছিল। তাদের ক্ষমতার খেলায় এক উজ্জ্বল উদাহরণ ভুক্তভোগী এএসপি আলী আহমেদ মাসুদ, যিনি বছরের পর বছর অন্যায়ের শিকার হয়েছিলেন।

খুলনার পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় জন্ম মাসুদের। খুলনা জিলা স্কুলে পড়াশোনা, এরপর সরকারি ব্রজলাল কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তারপর ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। এখানেই রাজনীতির মাঠে প্রথম নাম লেখান তিনি। তিনি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলের ছাত্রদলের একজন নেতা।

১৯৯২ সালের ২১ নভেম্বর যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর পদে। দায়িত্বশীল অফিসার, পরীক্ষায় সর্বদা সাফল্যে পদোন্নতির অপেক্ষায় কাটছিল দিন। এসময় তাকে বদলি করে ঢাকার বিমানবন্দর থানায় পাঠানো হয়। ২০০৭ সালে আইনি নোটিশে জানানো হয়- এসআই আলী আহমেদ মাসুদকে পদোন্নতি দিয়ে পুলিশ পরিদর্শক করা হবে। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

এনজেলিক এপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন এসআই মাসুদের বিরুদ্ধে। মামলায় বলা হয়, ২০০৬ সালের ১৪ জুলাই বিমানবন্দর থানায় কর্মরত অবস্থায় সিআর কেস নম্বর ৩১ তদন্তকাজে অবহেলা করেন মাসুদ। দীর্ঘ ৮ মাস পরও তদন্ত অসমাপ্ত রেখেই বদলির সূত্রে মিরপুরে যোগ দেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তদন্তের দায়িত্ব পালনকালে জাকির হোসেনের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ৯ হাজার ৫০০ টাকার হোটেল বিল, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার প্লেন টিকিট এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন তিনি।সবচেয়ে অবাক করা বিষয় অভিযোগে আরও বলা হয়- মাসুদ নিজে কেস ডায়েরি লেখেননি, বরং অন্য কাউকে দিয়ে তা লিখিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ আমলে নেয় ডিএমপি। সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে ঘুষ গ্রহণকে বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে, কেস ডায়েরি অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়ে নেওয়াকে দায়িত্বের অবহেলার চরম উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করে। শাস্তিস্বরূপ, পদোন্নতি বাতিল এবং ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে তার বেতন থেকে মাসিক ৩২৫ টাকা হারে ছয় মাসে মোট ১ হাজার ৯৫০ টাকা কেটে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

বাংলাদেশ পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে মাসুদকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি। পরবর্তীতে হাইকোর্টে আপিল করলে রায় আসে এসআই মাসুদের পক্ষে। মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পান।

২০১০ সালে আবারও এসআই থেকে পুলিশ পরিদর্শক পদে পদোন্নতির নাম আসলেও ছাত্রদলের রাজনৈতিক মতাদর্শের কারনে পদোন্নতি বঞ্চিত হন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর, ঝিনাইদহ জেলার পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন এআইজি বরাবর আলী আহমেদ মাসুদের সার্ভিস বেনেফিট প্রদানের সুপারিশ দাখিল করেন। যেখানে দাবি করা হয়, ২০০৭ সাল থেকে পদোন্নতির বিবেচনায় বেতন, ২০০৭ সাল থেকে পুলিশ পরিদর্শক পদে সিনিয়রিটি, ২০১০ সাল থেকে পুলিশ পরিদর্শক পদে স্থায়ীকরণ, বেতন থেকে কেটে নেওয়া ১ হাজার ৯৫০ টাকা ফেরত।

২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৬ বার আদালত মাসুদের পক্ষে রায় দিলেও স্বৈরাচার সরকারের আমলারা সবসময় তার বিপক্ষে ছিলেন।

জুলাই ২০২৪ ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পলায়নে, প্রায় দুই দশক ধরে সত্য-মিথ্যার দোলাচলে থাকা এই পুলিশ কর্মকর্তার ভাগ্য খুলে। পালিয়ে যায় ক্ষমতালোভী ব্যক্তিরা, গ্রেফতার হয় আব্দুল্লাহ আল মামুন।

ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেয়া বাংলাদেশ পুলিশের ৩০তম আইজিপি মো. মাইনুল ইসলাম তার ফাইল পুনর্মূল্যায়ন করে। দীর্ঘদিনের অবদান এবং সততার স্বীকৃতিস্বরূপ, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আলী আহমেদ মাসু্দকে এসআই থেকে এএসপি পদে পদোন্নতি দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আলী আহমেদ মাসুদ বলেন, ‘রাজনীতি আর আদালত একসাথে চললে আমার মতো ভিক্টিম আরও বাড়বে। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ জুলাই যোদ্ধাদের কাছে। তারা দেশের বিচারব্যবস্থাকে মুক্ত করেছে, কখনো অন্যের কষ্টের কারণ হতে পারেনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫৪ বছর ধরে চলে আসা রাজনৈতিক সংস্কৃতিই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। একই আদালত বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রায় প্রদান করছে, কারণ আমাদের দেশে স্বচ্ছ গণতন্ত্র নেই।’

পরিবারের সহায়তা ও সাহসের কারণে আজ তিনি বিজয়ের হাসি হাসতে পারছেন। সকল অপশক্তিকে মোকাবিলা করে সত্য ও ন্যায়ের জীবন্ত উদাহরণ, আলী আহমেদ মাসুদ।

স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম

আরও সংবাদ   বিষয়:  ফ্যাসিস্ট   হাসিনা   এএসপি মাসুদ     






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close