প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:১৪ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চরকলমী এলাকা থেকে এরশাদ আলী (৩৮) নামে এক ডাকাতকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে এরশাদ ডাকাত পালিয়ে আছে এমন খবরে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এরশাদকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এরশাদ গত শাসনামলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ডাকাতি, চুরি, মাদক ব্যবসা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল। ৫ আগস্টের পর চরএলাহীর প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল মতিন তোতার ছেলেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে এবং নিজেকে “নব্য বিএনপি” হিসেবে উপস্থাপন করে। এছাড়া নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সঙ্গে ছবি তুলে এলাকায় তা প্রদর্শন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায় এবং চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ায়।
গত ২১ আগস্ট চরএলাহীর জাহানারা বেগম বাদী হয়ে এরশাদ ডাকাতসহ সাতজনের নামে কোম্পানীগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নুর ইসলাম নামে এক যুবক চরকলমী এলাকায় নারিকেল-ডাব বিক্রি করতেন। এরশাদসহ কয়েকজন তার কাছে দৈনিক এক হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এরশাদ ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইদ্রিছ আলী নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী শুক্রবার রাতে এরশাদ লুকিয়ে আছে এমন খবরে একটি ঘর থেকে তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
এর আগে চাঁদাবাজির ঘটনায় আহত ইদ্রিছ আলীর বৃদ্ধা মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) বিমল কর্মকার বলেন, ‘এরশাদের বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে সে পুলিশ পাহারায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম