
ইতালির ঐতিহাসিক বন্দরনগরী জেনোয়া। প্রচলিত ঐতিহাসিক মত অনুযায়ী, বিশ্বখ্যাত নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের জন্ম এই শহরে। সেই জেনোয়ায় এখন বাংলাদেশিদেরও দৃশ্যমান উপস্থিতি। বিশেষ করে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের বসতি চোখে পড়ার মতো।
শহরের কিছু এলাকায় হাঁটলে মনে হতে পারে—এ যেন ইতালির কোনো শহর নয়, শরীয়তপুরেরই কোনো জনপদ। ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত রয়েছেন বাংলাদেশিরা।
এই অভিবাসনপ্রবাহের একটি বড় উদাহরণ নড়িয়ার ঘড়িসার ইউনিয়নের পূর্ব নন্দন শাহ গ্রামের ঢালী পরিবার।
১৯৮২ সালে শুরু
১৯৮২ সালে ইতালিতে পাড়ি জমান লুৎফর রহমান ঢালী। রোম দিয়ে শুরু হয় তাঁর ইতালি-জীবন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পরে আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের পরিচিতদের ইতালিতে আসতে সহযোগিতা করেন তিনি।
২০১০ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও তৈরি করা যোগাযোগের নেটওয়ার্ক থেমে থাকেনি। তাঁর ভাই ফজলুর রহমান ঢালীও প্রায় ২৯ বছর ইতালিতে ছিলেন। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নড়িয়া গ্রামের প্রায় অর্ধশত মানুষকে ইতালিতে আসতে সহযোগিতা করেন এবং অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন।
১৯ রেস্টুরেন্ট, ২০০ বাংলাদেশি
ফজলুর রহমানের চার ছেলে—সুজন, সবুজ, সজিব ও রাজিব ঢালী। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, চার ভাই জেনোয়ায় ১৯টি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন। রয়েছে হোটেল ব্যবসাও।
এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
সুজন ঢালী বলেন, “চাচা একটা পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন। পরে সেই পথ ধরে অনেক মানুষ এসেছে। এখন আমাদের প্রজন্ম ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্য বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।”
জেনোয়ায় ঢালী পরিবারের শতাধিক সদস্য
পরিবারের দাবি, বর্তমানে জেনোয়ায় ঢালী পরিবারের প্রায় ১০০ সদস্য বসবাস করছেন। কেউ ব্যবসা করছেন, কেউ চাকরি করছেন, আবার কেউ রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও বিভিন্ন সেবা খাতে যুক্ত।
সুজন ঢালীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর নড়িয়া ও আশপাশের এলাকার প্রায় সহস্রাধিক মানুষ ইতালির বিভিন্ন শহরে বসবাস করছেন। তবে এ সংখ্যার কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান নেই।
প্রবাসী আয়ের অর্থে অনেকে দেশে বাড়ি করেছেন, জমি কিনেছেন, সন্তানদের লেখাপড়া ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। ঢালী পরিবারের সংশ্লিষ্টদের দাবি, তাদের বিভিন্ন ব্যবসা ও আয়ের উৎস মিলিয়ে বছরে আনুমানিক ১২ লাখ ইউরোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রয়েছে। তবে এ হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
১৯৮২ সালে একজনের ইতালি যাত্রা থেকে শুরু হওয়া পথ আজ একটি বড় পারিবারিক ও সামাজিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। কলম্বাসের ঐতিহাসিক জেনোয়ায় নড়িয়ার মানুষের এই বিস্তার যেন প্রবাসে শরীয়তপুরেরই একটি নতুন ঠিকানা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ