প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:১৭ AM

চাঁদে মরিচা পড়ছে—এমন এক অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছে। সাধারণভাবে লোহা মরিচা ধরতে পানি ও অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাঁদে এই দুই উপাদানই খুবই সীমিত। তবুও চাঁদের পৃষ্ঠ ও মেরু অঞ্চলে হেমাটাইট (আয়রন অক্সাইড) শনাক্ত হয়েছে, যা মরিচার উপস্থিতি নির্দেশ করে।
বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্সে।
চীনের ম্যাকাউ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক জিলিয়াং জিন মনে করেন, এই আবিষ্কার পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে এক অদৃশ্য সংযোগের প্রমাণ বহন করে। তার মতে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন কোনোভাবে চাঁদে পৌঁছে যায়।
বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন, সাধারণত সূর্যের চার্জযুক্ত কণা চাঁদের পৃষ্ঠে এসে পড়ে। কিন্তু মাসের প্রায় পাঁচ দিন পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র সৌরকণাগুলোকে আটকে দেয়। এ সময় চাঁদ সরাসরি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে নির্গত অক্সিজেন কণার সংস্পর্শে আসে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘আর্থ-উইন্ড’।
পরীক্ষাগারে উচ্চশক্তির অক্সিজেন আয়ন চাঁদে থাকা আয়রনসমৃদ্ধ খনিজে নিক্ষেপ করে দেখা যায়, এগুলো হেমাটাইটে পরিণত হয়। আবার হেমাটাইটে হাইড্রোজেন প্রয়োগ করলে তা আংশিকভাবে ফের আয়রনে রূপান্তরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী শুয়াই লির মতে, চন্দ্রযান-১ মিশনে করা এই পরীক্ষাই নিশ্চিত করেছে চাঁদে মরিচা ধরার প্রক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অদ্ভুত প্রক্রিয়া ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযান, চাঁদের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং মহাকাশযানের সরঞ্জাম নকশায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ