প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:১৫ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাগুলো থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ আসছে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, “আমরা মনে করি যে সাহায্য-সহযোগিতা (জলবায়ু অর্থায়ন) যেটা দরকার, সেটা আসছে না। একটা হিসাব করা হয়—বাংলাদেশের জন্য ৩০ বিলিয়ন ডলার বোধ হয় দরকার। অথচ আইএমএফ থেকে এক-দেড় বিলিয়ন আনতেই আমাদের জান বেরিয়ে যায়।”
তিনি জানান, এক-দেড় বছরে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের নেগোসিয়েশন করতে হয়। সোমবার রাজধানীর পিকেএসএফ ভবনে জলবায়ু বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, আর্থিক সংকট সামাল দিতে ২০২২ সাল থেকে কয়েক দফা আলোচনা শেষে বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তিন কিস্তিতে ২৩১ কোটি ডলার পায় বাংলাদেশ। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চতুর্থ কিস্তির টাকা আটকে দেয় আইএমএফ। কারণ হিসেবে তারা জানায়—মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা ও রাজস্ব আহরণ নিয়ে শর্ত পূরণ হয়নি।
পরে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হার বাজারমুখী করার সিদ্ধান্ত নিলে আইএমএফ ২০২৫ সালের জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি মিলিয়ে ১৩৩ কোটি ডলার ছাড় করে।
জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সক্ষমতারও প্রশংসা করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “জনগণই সবচেয়ে বেশি ইফেক্ট হয় এবং জনগণই প্রভাব মোকাবেলায় এগিয়ে আসে। লোকাল লোকেরা নিজেদের প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবিলা করে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে প্রথম কাতারে রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যতটুকু সম্পদ ও সামর্থ্য আছে, তা সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সংবাদমাধ্যম যাতে জনস্বার্থে কাজ করে সেই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সাংবাদিক আর্টিকুলেট করবে মানুষের কথা। কার কী কন্ট্রিবিউশন সেটা বলবে। আপনারা ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম করবেনই, কিন্তু ক্লাইমেট রিলেটেড প্রভাব নিয়েও কাজ করবেন। আমাদের দেশে ম্যান মেইড ডিজাস্টার যেমন আছে, তেমনি ন্যাচারাল ডিজাস্টারও আছে। অতএব দুই দিকেই নজর দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ