বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
অস্ট্রেলিয়ায় আলোচিত হত্যাকাণ্ড
বিষাক্ত মাশরুম খাইয়ে তিনজনকে হত্যা, যে রায় দিলেন আদালত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:০৮ পিএম আপডেট: ০৮.০৯.২০২৫ ৪:১৭ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

অস্ট্রেলিয়ায় বিষাক্ত ডেথ ক্যাপ মাশরুম খাইয়ে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় এরিন প্যাটারসনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ভিক্টোরিয়া সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, ৫০ বছর বয়সী এরিন সাজা চলাকালে ৩৩ বছর পর্যন্ত কোনো প্যারোলের সুযোগ পাবেন না।

দুই সন্তানের মা এই নারী তার তিন আত্মীয়কে হত্যা এবং আরও একজনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

এরিন তার বাড়িতে বিফ ওয়েলিংটন নামে একটি খাবার রান্না করে অতিথিদের পরিবেশন করেছিলেন। পরে দেখা যায়, সেখানে ছিল বিষাক্ত ডেথ ক্যাপ মাশরুম। ২০২৩ সালের ২৯ জুলাই দুপুরের খাবার বা লাঞ্চের টেবিলে ঘটনাটি ঘটেছিল।

তবে শুনানি চলাকালে প্যাটারসন বেশিরভাগ সময় চোখ বন্ধ রেখেছিলেন। কেবল রায় ঘোষণার সময় চোখ খুলেছিলেন তিনি। তবে এ রায়ে তিনি তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। 

আদালতের সিন্ধান্ত

রায়ের সময় আদালতে বিচারপতি বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড ছিল ভয়াবহ এবং প্রতারণামূলক। এরিন প্যাটারসন প্রমাণ গোপন করতে ইচ্ছাকৃতভাবে খাবারের প্লেট ফেলে দেন, মিথ্যা বিবৃতি দেন, এবং তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। পুলিশের কাছে অনেক বিষয়ে মিথ্যা বলেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনায় আপনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তাদের সঙ্গে, যারা আপনাকে বিশ্বাস করেছিল, ভালোবাসত। এটি ছিল এক নির্মম কৌশল।”

রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি এরিন প্যাটারসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি আপনার দোষ আড়াল করার জন্য এক জটিল কৌশল নিয়েছিলেন এবং এটি ছিল ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতা।

এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র অতিথি ইয়ান উইলকিনসন সোমবার আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, তার আবেদন এটুকুই, সবাই যেন ঘটনাটিকে ঘিরে দয়া এবং সহমর্মিতা প্রদর্শন করে। 

কারাগারে এরিন প্যাটারসনের জীবন

এরিন প্যাটারসন প্রতিদিন ২২ ঘণ্টা সেলে কাটাচ্ছেন, খাবার ও ওষুধ দরজার ফাঁক দিয়ে দেওয়া হয়। ব্যায়াম ও একটু খোলা বাতাস নেওয়ার জন্য ছোট একটি কনক্রিটের মাঠও রয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী তার জীবনের বাকি সময় জেলে কাটাতে হবে।

সপ্তাহে দুইবার ২০ মিনিটের জন্য কারাগারের লাইব্রেরি ব্যবহার করা যায়। সেখান থেকে অন্য বন্দির সঙ্গে বেড়ার ফাঁকা দিয়ে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। 

বাদীপক্ষ আদালতে প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করলেও আদালত প্যারোলের সুযোগ রেখেছে। তবে, এই প্যারোল তিনি পাবেন ৩৩ বছর পর।

এরিনের নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে হয়তো বছরের পর বছর একক সেলে রাখা হবে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি। 

বাদীপক্ষ থেকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন এরিনের আত্মীয় ইয়ান উইলকিনসন। তিনি রায় ঘোষণার পর সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সাথে তিনি তার পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষারও দাবি জানান।

উইলকিনসন পুলিশের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনজন ভালো মানুষের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তার সত্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।

আলোচিত মাশরুম হত্যা মামলা

বাদী পক্ষের আইনজীবীর দাবি, এরিন ইচ্ছা করে ওই বিষাক্ত মাশরুম খাবারে মিশিয়েছিলেন।

এজন্য তিনি পাশের শহর থেকে আগে থেকেই বিষাক্ত ডেথ ক্যাপ মাশরুম সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি ক্যানসারে ভুগছেন এমন মিথ্যা কথা বলে আত্মীয়দের লাঞ্চে দাওয়াত করেন। পরে প্রমাণ লুকাতে পুলিশকে মিথ্যা বলেন এবং প্রমাণ সরিয়ে ফেলেন।

তবে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীর দাবি, তার মক্কেল মাশরুম খেতে ভালোবাসেন এবং তিনি বিভিন্ন ধরণে র মাশরুম সংগ্রহ করেন। তিনি দুর্ঘটনাবশত এই বিষাক্ত মাশরুম খাবারে দিয়েছিলেন এবং পরে ভয় পেয়ে মিথ্যা বলেছেন, কারণ প্রিয়জনদের এই করুন পরিণতি দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সেদিন যা কিছু ঘটেছে তা একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা মাত্র।

অভিযোগ দায়েরের সময় এরিন প্যাটারসন সাংবাদিকদের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, আমি এই ঘটনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমি তাদের ভালোবাসতাম। এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না, তারা নেই।

কিন্তু হত্যার কোনো কারণের কথা এখনো জানা যায়নি। বাদীপক্ষের আইনজীবীর দাবি, কাউকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করতে কারণ বা উদ্দেশ্য লাগে না।

বিষাক্ত সেই মাশরুমগুলো তার বাড়ির কাছাকাছি একটি জায়গায় পাওয়া যায়। ফোনের রেকর্ডেও দেখা যায়, এরিনের মোবাইল সেই এলাকায় সচল ছিল।

এরিনের আইনজীবী স্বীকার করেছেন, এরিন সেই দিনগুলোতে পুলিশকে একাধিকবার মিথ্যা বলেছিলেন।

তার মধ্যে একটি মিথ্যা ছিল, তিনি বলেছিলেন, তিনি মাশরুম শুকাতে যে ডিহাইড্রেটর মেশিনটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটা ফেলে দিয়েছেন, কিন্তু কোথায় ফেলেছেন তা লুকিয়েছিলেন।

পরে দেখা যায়, তিনি সেটি স্থানীয় একটি জায়গায় ফেলেন, আর সেটা সিসিটিভিতে ধরা পড়ে।

কি ঘটেছিলো সেদিন?

এরিনের শ্বশুর-শাশুড়ি, ডন ও গেইল সেদিন দুপুরে একটি কমলা ফলের কেক নিয়ে এসেছিলেন। এরিন তার সাবেক স্বামী সাইমন প্যাটারসনকেও দাওয়াত করলে তিনি আগের দিনই সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দাম্পত্য জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাদের মধ্যে টানাপোড়েন থাকায় তিনি সেখানে যেতে ‘অস্বস্তি’ বোধ করছিলেন।

সেদিন সকালে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় এক রাঁধুনির রেসিপি অনুসরণ করে এরিন বেশ কষ্ট করে রান্নাবান্না করেন। তিনি নিজের মতো করে রেসিপিতে কিছু পরিবর্তন করেন। মূলত বিফ ওয়েলিংটন খাবারটি একেকজন একেকভাবে রান্না করে থাকেন। এখানে মূলত স্টেকের টুকরোয় মাশরুম পেস্ট মেখে রান্না করা হয়।

বেঁচে ফেরা একমাত্র ব্যক্তি জুরিদের সামনে বলেন, তিনি দেখেছিলেন খাবারগুলো চারটি ছাই রঙের থালায় পরিবেশন করা হয়, আর এরিন তার খাবারটি একটি কমলা থালায় নিয়ে আসেন। সঙ্গে ছিল ম্যাশড পটেটো, সবুজ মটরশুঁটি এবং ঘন ঝোল। আরেকটি প্লেট সাইমনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। যদি তিনি সিদ্ধান্ত বদলান। পরে সেই প্লেটটি ফ্রিজে রাখা হয়।

প্রথমদিকে এরিনের বিরুদ্ধে সাইমনকেও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছিলো। কিন্তু বিচার শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে এই অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়। এরপর সবাই একসাথে প্রার্থনা করে খাবার খেতে শুরু করেন। খাবার সময় তারা নিজেদের মধ্যে হাসি ঠাট্টাও করছিলেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো


আরও সংবাদ   বিষয়:  অস্ট্রেলিয়া   ডেথ ক্যাপ মাশরুম   ভিক্টোরিয়া সুপ্রিম কোর্ট  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close