প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৪৩ AM

আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এটি একই অঞ্চলে রোববারের পর থেকে তৃতীয় ধাক্কা। প্রাথমিকভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত রোববারের ভূমিকম্পে দেশটির দুই হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র পাকিস্তান সীমান্তের কাছে শিবা জেলায়। নানগারহার প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র নকিবুল্লাহ রহিমি জানান, বারকাশকট এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ চলছে। ভূমিকম্পটি ১০ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়েছিল।
এর আগে, কুনার ও নানগারহার প্রদেশে আঘাত হানা ভূমিকম্পে অসংখ্য গ্রাম বিধ্বস্ত হয়, কয়েক লাখ মানুষ গৃহহীন হয় এবং তিন হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়। বৃহস্পতিবার উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৫ জনে এবং আহত অন্তত ৩ হাজার ৬৪০ জন।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের মতো জরুরি সহায়তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে বেঁচে থাকা গৃহহীন মানুষদের জন্য ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
কুনার প্রদেশের বাসিন্দা আলেম জান বলেন, “আমাদের যা কিছু ছিল সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন শুধু গায়ে যা কাপড় আছে তাই আমাদের সম্বল।” তিনি জানান, তার পরিবার গাছতলায় বসে আছে এবং পাশে স্তূপ করে রাখা আছে কিছু অবশিষ্ট সামগ্রী।
রোববারের ৬ মাত্রার ভূমিকম্প সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবার ৫.৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ে, দুর্গম এলাকার সড়কপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। বৃহস্পতিবারের এই ভূমিকম্প আরও দুর্যোগকে তীব্র করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ