প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:০২ AM আপডেট: ০৫.০৯.২০২৫ ১:১১ এএম

জামায়াতে ইসলামীর বয়স ৮৪ বছর পেরিয়ে ৯ম দিনে পড়ল। প্রায় শতবর্ষ ছুঁই ছুঁই বয়সেও কেন তারা উপমহাদেশের কোথাও ক্ষমতায় যেতে পারল না, সেটি নিয়ে ইসলামী রাজনীতির বিশেষজ্ঞদের কোনো গবেষণা থাকলেও থাকতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে আমার সেসব নিয়ে মাথাব্যথা কম। জামায়াতের হাত ধরেই ইসলাম ক্ষমতায় বসবে নাকি এর জন্য বিকল্প কোনো ইসলামী শক্তির উত্থান প্রয়োজন হবে, সেটি সময়ের হাতে ছেড়ে দেওয়াই ভালো।
আমার উদ্বেগের জায়গাটা অন্যখানে। ধরে নিলাম– জামায়াতে ইসলামী শতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই অন্যান্য ইসলামী শক্তিগুলোকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় আসীন হলো। এরপর কি ঘটবে? মানুষের প্রত্যাশানুযায়ী কি তারা সর্বস্তরে রোল প্লে করতে পারবে? নাকি এক টার্ম পরই মুখ ফিরিয়ে নেবে জনতা? অনৈসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় নিজেদের অধিক সৎ এবং যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে কি সত্যি সত্যিই?
জামায়াতে ইসলামী কি আজ এই মুহূর্তে জাতির সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারবে– যে ৩০০ জন এমপি ক্যান্ডিডেট তারা দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই উমর ইবনে আবদুল আজীজের প্রতিচ্ছবি? বন্ধু এলে রাষ্ট্রের টাকায় কেনা মোমবাতি নিভিয়ে দেবেন তারা? অধ্যাপক গোলাম আযমের মতো দলীয় গাড়িতে করে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে নিজের পকেট থেকে তেলের টাকা দিয়ে দেবেন ড্রাইভারকে? অবশ্যই এসব প্রশ্ন করতে হবে জামায়াতকে।
শত শত বই-পুস্তক, হাজারো টিসি-টিএস, আলোচনা, নৈশ ইবাদত আর ক্রন্দনের মধ্য দিয়ে যে মেম্বারদের তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী; তারা কয়েকজন এক হয়ে ব্যবসা করতে গেলে টাকা হাওয়া হয়ে যায় কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে তাদের। এদেশের ইসলামী রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীই আশার প্রাণভোমরা। আমরা তাদের শত্রু নই, শুভাকাঙ্ক্ষী। সেজন্যই এত কথা বলি। কেবল ক্ষমতায় যেতে পারাই সফলতা নয় ভাই সকল! সর্বস্তরে ইবনে আজীজ তৈরি না হলে সবকিছু বুমেরাং হবে নিশ্চিত।
লেখক ও কলামিস্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ