
“মব” শব্দটি একসময় অনেকের অজানা থাকলেও বর্তমান সময়ে তা সবচেয়ে ব্যবহৃত শব্দগুলোর মধ্যে অন্যতম। যা পরিচিত একটি শব্দে পরিণত হয়েছে। “মব” একটি ইংরেজি শব্দ। যার অর্থ উত্তাল জনতা বা উচ্ছৃঙ্খল জনতা এবং জাস্টিস হলো বিচার বা ন্যায় বিচার। মব জাস্টিস হলো একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা বা কিছু মানুষ নিজ হাতে আইন তুলে নেওয়া। এসব ঘটনা অহরহ সংঘটিত হচ্ছে দেশের আনাচে কানাচে। তারা সন্দেহের উপর ভিত্তি করে মানুষের উপর চড়াও হয়। এমনকি কাউকে চোর সন্দেহে, কাউকে ডাকাত সন্দেহে, আবার কাউকে ধর্ষণকারী সন্দেহে হেনস্তা করা হয়। পিটিয়ে হত্যা করে ফেলার মতো ভয়াবহ ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে।
ইসলাম কখনো এ ধরনের বিচার বহির্ভূত হত্যা বা মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া এমন কাজ সমর্থন করে না। অনুমান এবং সন্দেহ থেকে অনেক পাপ ও খারাপ কাজের উৎপত্তি হয়। তাই মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ ! তোমরা অধিক অনুমান থেকে দুরে থাকো। কারণ অনুমান কোন কোন ক্ষেত্রে পাপ ( সূরা হুজুরাত১২)।”
কারো উপর কোন বিষয়ে সন্দেহ হলেই অন্যায়ভাবে তাকে হেনস্তা করা বা তার উপর আক্রমণ করে বসা সমীচীন নয়। ইসলাম মানুষের জানমাল ও জীবনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। হাদিস শরিফে রাসুল সা. বলেন, “যদি আকাশ ও পৃথিবীর সকলে মিলেও কোনো মুমিন হত্যায় অংশগ্রহণ করে, তবুও আল্লাহ তাআলা তাদের সকলকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন ( তিরমিজি ১৩৯৮)।”
এছাড়াও কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “যদি কেউ অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে, সে যেন গোটা মানব জাতিকে হত্যা করলো। আর যে ব্যক্তি কারো প্রাণ রক্ষা করলো, সে যেন গোটা মানব জাতির প্রাণ রক্ষা করলো (সূরা মায়িদাহ ৩২)। এ আয়াত থেকে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মহান আল্লাহর নিকট একজন মানুষের জীবনের মর্যাদা অপরিসীম। তাই নিজ থেকে আইন তুলে নেওয়া যাবে না। কেউ কোন অপরাধে জড়িত হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করতে হবে। নিজেরাই বিচারক হিসেবে আবির্ভূত হলে নিরপরাধ মানুষও ক্ষতির সম্মুখীন হবে, যা বর্তমান সময়ে হচ্ছে। প্রত্যেক নিরপরাধ মানুষকে নির্বিঘ্নে জীবনযাপনের অধিকার দিয়েছে ইসলাম।
হাদিসের ভাষ্য মতে যাকে হত্যা করা হয়, সে হত্যাকারীকে সঙ্গে নিয়ে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর সম্মুখীন হবে। হত্যার শিকার ব্যক্তির মাথার শিরা হত্যাকারীর হাতেই থাকবে। শিরাগুলো থেকে তখন রক্ত পড়বে। হত্যার শিকার ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহ্বান করে বলবে, “হে আমার প্রভু! এই ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। এমনকি সে হত্যাকারীকে আরশের নিকটে নিয়ে যাবে। শ্রবণকারী ইবনে আব্বাস রা. কে উক্ত হত্যাকারীর তওবা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উপরোক্ত সুরা নিসার আয়াতটি তিলাওয়াত করে বলেন, “উক্ত আয়াত রহিত হয়নি। অতএব তার তওবা কোন কাজে আসবে না, (তিরমিজি ৩০২৯)।
রাসুল সা. বলেন, “সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ হচ্ছে ৪টি।”
(১) আল্লাহর সাথে শরিক করা
(২) কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে হত্যা করা
(৩) মাতাপিতার অবাধ্য হওয়া
(৪) মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া
প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে মব জাস্টিস। যার প্রধান কারণ সমূহের মধ্যে অন্যতম মহান আল্লাহর ভয় থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নেওয়া। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কবুল করেন।
লেখকঃ ইসলামিক দায়ী ও সমাজ গবেষক।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস/ওমর