প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫, ৫:৪০ AM

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বুধবার (২৭ আগস্ট) গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ বিলিয়ন ৩৩ লাখ ডলার।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ বিলিয়ন ৩১ লাখ ডলার। এর আগে রোববার গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।
গত মাসের শুরুতে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) প্রায় ২০২ কোটি ডলার পরিশোধের ফলে দেশের রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছিল। তখন গ্রস রিজার্ভ নেমে আসে ২৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। তবে পরবর্তীতে রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ সহায়তা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে এবং অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। তবে সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে গত জুলাই শেষে রিজার্ভ নেমে যায় ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে অর্থ পাচারে কঠোর নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় ডলারের প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে।
হুন্ডি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়ে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৪১২ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ