প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৩০ AM

দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ. এম. এম. বাহাউদ্দীনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বুধবার (২৭ আগস্ট) এই নোটিশ পাঠানো হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, ইনকিলাবের এক খবরে তাদেরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘গুপ্ত ছাত্রলীগ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, ওই খবরে ছাত্রশিবিরকে শিক্ষার্থীদের ভাষায় ‘গুপ্ত ছাত্রলীগ’ বলা হলেও কোনো শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি ও ডাকসু জিএস প্রার্থী এস. এম. ফরহাদকে ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা তথ্যগতভাবে ভুল। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফরহাদ এবং শিবির সভাপতি ফরহাদ দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি।
শিবির দাবি করে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের সংগঠন। এক দশকেরও বেশি সময় অঘোষিত নিষিদ্ধ অবস্থায় থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছে শুধু ‘শিবির সন্দেহে’। নোটিশে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও তুলে ধরা হয়। তাদের অভিযোগ, অন্যান্য ছাত্র সংগঠন যেমন ছাত্রদল বা বাম সংগঠনগুলো স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালেও শিবিরকে টার্গেট করে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
সংগঠনটি আরও বলছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন দিতে শিবিরকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অথচ ইনকিলাবই সম্প্রতি ছাত্রদলের প্যানেলে অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ নেতার থাকার তথ্য প্রকাশ করেছে। তবুও ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত ছাত্রলীগ’ আখ্যা দেওয়া সাংবাদিকতার নামে একধরনের হীন উদ্দেশ্যের বহিঃপ্রকাশ বলে তারা উল্লেখ করেছে।
সবশেষে নোটিশে বলা হয়, ছাত্রশিবির একটি আদর্শিক ছাত্র সংগঠন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও অধিকার আদায়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করে যাচ্ছে। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, ভর্তি সহায়তা, চিকিৎসা সহযোগিতা, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা এবং শিক্ষা সামগ্রী বিতরণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবেও সংগঠনটি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ