প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ৫:১১ AM

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন (জুলাই–আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি হওয়া গুরুতর আহত ১৬৭ জনের অধিকাংশের মাথার খুলি ছিল না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান।
বুধবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য দেন।
জবানবন্দিতে তিনি আরও জানান, ওই সময়ে বহির্বিভাগে ৫৭৫ জন গুলিবিদ্ধ ও পিলেটবিদ্ধ রোগী চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। গুরুতর আহতদের মধ্যে ১৬৭ জন ভর্তি হন, যাদের অধিকাংশেরই মাথার খুলি ছিল না। চারজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ২৯ জন।
চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান জানান, সিট সংকুলান না থাকায় অনেককে ভর্তি না করেই ছেড়ে দিতে হয়েছে। এ সময় তিনি ৩৩টি অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন এবং ১৫টির বেশি গুলি ও পিলেট আহতদের শরীর থেকে বের করেন। তবে কিছু বুলেট শরীরেই থেকে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের ১৯ জুলাই পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) নতুন করে গুলিবিদ্ধ ছাত্রদের ভর্তি না করার জন্য চাপ দেয় এবং নির্দেশ আসে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার। তখন কৌশলে ভর্তি রেজিস্ট্রারে রোগীর জখমের ধরন পরিবর্তন করে ‘রোড অ্যাক্সিডেন্ট’ বা অন্য কারণ লিখে ভর্তি করাতে হয়।
জবানবন্দিতে এই চিকিৎসক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী নেতা ওবায়দুল কাদের ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরাফাতসহ গুলি চালনার নির্দেশদাতাদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানান।
এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস এইচ তামিম। পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। আর গ্রেফতার হয়ে আদালতে হাজির হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন যায়েদ বিন আমজাদ।
গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিচার শুরুর আদেশ দেয়। তাদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে—একটি আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে, অপরটি শাপলা চত্বরে হেফাজত সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
সূত্র : বাসস
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ