
আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া দেশের আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের গড়ে তোলা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
= ৩০ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে রাজউক
= না মানলে আশিয়ান সিটি প্রকল্পে আইনি ব্যবস্থা
= আইন ভঙ্গ করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড
দেশের আবাসন খাতে প্রতারণার ফাঁদ আশিয়ান সিটি আবাসন প্রকল্প। এর ফাঁদে পড়ে হাজার হাজার মানুষ আজ পথে বসেছে। বাহারি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ঢাকা শহরে একখণ্ড জমির আশায় হাজার হাজার ভুক্তভোগী পরিবার ওদের খপ্পরে পা দিয়ে আজ সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব।
চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নজর কেড়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ‘আশিয়ান সিটি’ আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন দেশে আবাসন মেলা করে প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করে। প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ নিরাপদ ভেবে তাদের ঘামঝরা অর্থ সুরক্ষায় আশিয়ান সিটিতে প্লট ক্রয় করেন।
আশিয়ান সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও প্লটের রেজিস্ট্রেশন পাচ্ছেন না তারা। রেজিস্ট্রির কথা বলে সরকারি ফি এর ১০-১৫ গুণ বেশি টাকা দাবি করে, যা জমির মূল্য থেকেও অনেক বেশি। কেউবা এ অতিরিক্ত ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন পেলেও সরেজমিনে প্লটের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি গ্রাহকরা। অবৈধভাবে জমি দখল, ভুয়া জমি, একই প্লট একাধিকবার বিক্রি করা থেকে শুরু করে হামলা এমনকি খুনের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে এই আশিয়ান সিটি। এমন হাজারো অভিযোগ রয়েছে আসিয়ান সিটির নামে। কিন্তু আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া দেশের আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের গড়ে তোলা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার আলোকে ‘আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডে’র অধীনে পরিচালিত আশিয়ান সিটি প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত সব ধরনের বিজ্ঞাপন, বিক্রয় ও প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ ও অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র রাজউকের কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
রাজউকের পক্ষ থেকে পাঠানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা জেলার দক্ষিণখান থানা এলাকার দক্ষিণখান মৌজায় প্রতিষ্ঠিত আশিয়ান সিটি প্রকল্প এখনো রাজউকের অনুমোদন পায়নি। সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত ৩৩ (তেত্রিশ) একর আবাসিক এলাকা উন্নয়নের নির্দেশ থাকলেও বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, অনলাইন ও বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যা আইনত সম্পূর্ণ অবৈধ।
নোটিশে বলা হয়, বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত ২০১১ ও ২০১৫) অনুযায়ী কোনো প্রকল্পে উন্নয়ন কাজ শুরু বা জমি বিক্রির আগে রাজউকের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া কোনো প্লট বিক্রি, হস্তান্তর বা বিজ্ঞাপন প্রচার করলে ২০১০ সালের রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা ৩ বছরের কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
রাজউকের নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন এসব কার্যক্রম বন্ধ না করলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা না দিলে আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প এলাকার সব ধরনের সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, অনলাইন প্রচার এবং বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া, জরিমানা আদায় এবং আইন অনুযায়ী অন্যান্য দণ্ড প্রয়োগ।
রাজউক জানিয়েছে, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০; রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০; এবং বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত ২০১১ ও ২০১৫) অনুযায়ী আশিয়ান সিটি প্রকল্পের জন্য সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল অনুমোদন দেওয়া হবে। এর আগে কোনো ধরনের বিক্রয়, প্রচার বা উন্নয়ন কার্যক্রম চলতে পারবে না। রাজউকের নোটিশটি পাঠানো হয়েছে আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে, যাতে অবিলম্বে আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস/ওফ