
দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার কিডনি প্রতিস্থাপন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। রক্তের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও একজন রোগীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করেছেন গাইবান্ধার এক ব্যক্তি। তাঁর দান করা কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বাগেরহাটের এক রোগীর শরীরে।
শনিবার বিএমইউতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এ তথ্য জানান। একই দিন চিকিৎসা শেষে রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, নিকট আত্মীয়ের পাশাপাশি প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারেন। তবে এ ধরনের দানের ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক, দাতার স্বেচ্ছাসম্মতি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কোনো ধরনের চাপ বা অনৈতিক প্রভাব ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে কি না—এসব বিষয় কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।
সম্ভাব্য দাতার আইনগত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হয়। এরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দাতার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাগত উপযোগিতা মূল্যায়ন করেন। সব ধরনের যাচাই ও প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই কিডনি দানের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিএমইউর উপাচার্য স্পষ্ট করে বলেন, কিডনি দানের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই। অর্থের বিনিময়ে কিডনি দান বা গ্রহণ করা যাবে না। কিডনি দান হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত শর্ত মেনে।
বিএমইউ সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের ওই রোগী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি গত ১০ আগস্ট বিএমইউতে ভর্তি হন। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, দাতা নির্বাচন, আইনগত যাচাইসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সব প্রস্তুতি শেষে ৩১ আগস্ট তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।
অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর রোগীকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। চিকিৎসা শেষে শনিবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ সময় রোগী ও তাঁর স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ট্রান্সপ্লান্ট টিমের সদস্য ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রথম ইমোশনাল ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে জটিল ও আধুনিক অঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। এতে রোগীদের ভোগান্তি ও চিকিৎসার বড় ধরনের ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিএমইউতে লিভার প্রতিস্থাপন কার্যক্রমও চলছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। ধীরে ধীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি