প্রকাশ: রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫, ৬:০৮ পিএম

পৃথিবীর সবচেয়ে অনাবিষ্কৃত ও রহস্যময় অঞ্চলের একটি হলো গভীর সমুদ্র। বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের প্রশ্ন—সমুদ্রের ঠিক কত গভীর পর্যন্ত প্রাণ বাঁচতে পারে? এবার সেই প্রশ্নের জবাবের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক একদল গবেষক।
চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় প্রথমবারের মতো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩১ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে প্রাণের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের অতল গহ্বরে আবিষ্কৃত এই জীববৈচিত্র্য বিজ্ঞানীদের অবাক করেছে। সূর্যালোকহীন এই অঞ্চলের প্রাণীরা ‘কেমোসিন্থেসিস’ নামের এক বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেঁচে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় তারা সূর্যের আলো ছাড়াই মিথেন ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো রাসায়নিক পদার্থ থেকে শক্তি উৎপন্ন করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ডকৃত সবচেয়ে গভীর কেমোসিন্থেটিক বাস্তুতন্ত্র। সম্পূর্ণ অন্ধকার, বরফঠাণ্ডা পরিবেশ এবং প্রচণ্ড জলচাপের মধ্যে প্রাণের এমন অভিযোজন অনেকটাই অন্য গ্রহে প্রাণের সন্ধান পাওয়ার মতোই রোমাঞ্চকর। গবেষকরা বলছেন, এই আবিষ্কার পৃথিবীতে জীবনের জৈবিক সীমাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে।
এই যুগান্তকারী গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার-এ। গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে চীনের অত্যাধুনিক ডুবোজাহাজ ফেন্ডৌজে সাবমার্সিবল, যার উচ্চ রেজল্যুশনের ক্যামেরা ও গবেষণা সরঞ্জাম রয়েছে। এই যানটির মাধ্যমে ৩১ হাজার ফুটের বেশি গভীরে বিভিন্ন অণুজীব ও প্রাণীর কার্যকলাপ নজরদারি করা সম্ভব হয়েছে।
এই গভীরতম বাস্তুতন্ত্রে প্রাণীরা একটি অনন্য খাদ্যশৃঙ্খল গড়ে তুলেছে। এখানে পানির চাপ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় এক হাজার গুণ বেশি এবং তাপমাত্রা প্রায় হিমাঙ্কের কাছাকাছি। এমন পরিবেশে সাধারণ যন্ত্র কিংবা যানবাহন টিকে থাকতে পারে না।
এই গবেষণা শুধু গভীর সমুদ্রের রহস্যই উন্মোচন করেনি, বরং আমাদের সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোতেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে—এই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ