প্রকাশ: রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫, ৬:৩৭ পিএম

নেটফ্লিক্স প্রথমবারের মতো তাদের কোনো মূল প্রযোজনায় উৎপাদনক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (জেনারেটিভ এআই) ব্যবহার করেছে। আর্জেন্টিনার বিজ্ঞান কল্পকাহিনি ভিত্তিক সিরিজ ‘দি এটারনাউট’-এ একটি ভবন ধসের দৃশ্য তৈরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
নেটফ্লিক্সের সহ-প্রধান নির্বাহী টেড সারান্দোস জানিয়েছেন, এই এআই প্রযুক্তির সাহায্যে দৃশ্যটি তৈরি করতে প্রম্পট-ভিত্তিক ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রযোজনা দলকে অত্যন্ত দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছে। তার ভাষায়, এই দৃশ্যটি “নেটফ্লিক্সের কোনো মূল সিরিজ বা চলচ্চিত্রে প্রথম এআই-নির্ভর ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট।”
তিনি আরও বলেন, বুয়েনস এইরেসে ভবনধসের ওই দৃশ্য স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১০ গুণ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার ঘিরে বির্তকও কম নয়। অনুমতি ছাড়াই অন্যের কাজ ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরির আশঙ্কা এবং মানুষের কাজ প্রতিস্থাপন করার সম্ভাবনা নিয়ে বিনোদন জগতে নানা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের হলিউড ধর্মঘটে এআই-ব্যবহার ছিল অন্যতম বিতর্কিত ইস্যু। স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড ও আমেরিকান ফেডারেশন অব টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্টস (SAG-AFTRA) সংগঠন এআই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি তোলে।
এ প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরভিত্তিক অ্যানিমেশন স্টুডিও CraveFX-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভিয়ার ইউন মন্তব্য করেন, “নেটফ্লিক্সের এআই গ্রহণ বিস্ময়কর নয়। অনেক বড় স্টুডিওই এখন প্রযুক্তিটিকে মেনে নিচ্ছে। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার। ছোট স্টুডিওগুলোর জন্য এটি বড় বাজেটের দৃশ্য তৈরি করার নতুন সুযোগ তৈরি করছে।”
তবে ইউন মনে করেন, চূড়ান্তভাবে ছবিতে কী থাকবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো মানুষের—শিল্পীর।
এদিকে নেটফ্লিক্স জানায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় ১৬ শতাংশ বেড়ে ১১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মুনাফাও ২.১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১ বিলিয়ন ডলার।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ