
ভারতের প্রভাবশালী শিল্পপতি অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগে অভিযান শুরু করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে দিল্লি, মুম্বাইসহ অন্তত ৩৫টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, অনিল আম্বানির মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত সংস্থা ৫০টিরও বেশি কোম্পানি ও ২৫ জন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
মূলত অনিল আম্বানির কোম্পানিগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক বিরোধ চলছে। এসবিআইয়ের অভিযোগ, আম্বানির প্রতিষ্ঠানগুলো ভুয়া নথি দেখিয়ে ঋণ নিয়েছে এবং তা ফেরত দেয়নি। গত বুধবার এসবিআই এক বিবৃতিতে তাদের ‘প্রতারক’ হিসেবেও অভিহিত করে। এমনকি তারা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর কাছে অভিযোগ দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে।
এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরে এসবিআই অনিল আম্বানি পরিচালিত রিলায়েন্স কমিউনিকেশন্সকে ‘ফ্রড অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। যদিও ওই অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেয়।
ইডির দাবি, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্র, যার মাধ্যমে ব্যাংক, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অনিল আম্বানির ‘রাগা’ গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানি ইয়েস ব্যাংক থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি রুপি ঋণ পেয়েছে। এর বিপরীতে ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা পান। ইডি একে ‘কুইড প্রো কো’ অর্থাৎ বিনিময় চুক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অনিলের অনেক কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা যাচাই না করেই ঋণ দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকা সত্ত্বেও ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। একই ঠিকানা ও পরিচালনায় থাকা একাধিক কোম্পানিকে বারবার ঋণ দেওয়া হয়েছে। নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধের কৌশলও ব্যবহার করা হয়েছে।
ইডিকে সহযোগিতা করছে ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি), ন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি (এনএফআরএ) এবং ব্যাংক অব বরোদা।
সেবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স হোম ফিন্যান্স লিমিটেড ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩ হাজার ৭৪২ কোটি রুপি ঋণগ্রহণ করলেও পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৬৭০ কোটিতে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ