
কুমিল্লার মুরাদনগরে মা’সহ দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শিমুল চেয়ারম্যানসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে।
মুরাদনগরের এই নৃশংস ঘটনায় ভুক্তভোগী রুমা আক্তারকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে একটি ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘শিমুল চেয়ারম্যান ডিকলার দিছে এককেবারে মাইরা ফেলতে। শিমুল চেয়ারম্যান তাদের বলেছে, ২০ টা মামলা হইলে হবে আমি (শিমুল চেয়ারম্যান) দেখবো, ওর বংশ নির্বংশ করে দিতে হবে।’
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আমার ওপর ৫০ জন হামলা করেছে, আমি তাদের জানি, তার সবাই কাশিমপুর ও কড়ইবাড়ির লোক। হামলাকারীদের মধ্যে, আবু মেম্বার, বক্কর মেম্বার, বাচ্চু মেম্বার, শিমুল চেয়ারম্যান, শরীফ, বাছির, আতিক, আনু মেম্বার, রফিক, রবিউল, টেগড়া জুয়েল, বিল্লাল বাবুর্চি ছিল। এছাড়াও আরও অনেকে ছিল তাদের আমি নাম জানিনা তবে তাদের চেহারা আমার চেনা।’
জানা যায়, এই নৃশংসতম হামলার শিকার রুমা আক্তার বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার মাথা ও মুখমন্ডলে বেশ কিছু সেলাই দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর রুমার বোন রিক্তা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিমুল চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি, আমি মামলার বাদি হওয়ায় আমাকে নানাভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছে হামলাকারীরা।’
পরিবারের সদস্যদের হত্যার ও হামলার বিচারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যারা আমার মা-বোন ও ভাইকে হত্যা করেছে ছোট ছোট বাচ্চাদের এতিম করছে আমি তাদের ফাঁসি চাই।’
এই হামলার ঘটনায় করা মামালায় গত দুই দিনে ঢাকায় র্যাবের হাতে ও কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর হাতে ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে আসামিদেরকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাঙ্গরা বাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তাহের ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের আদালতে আসামিদের রিমান্ডের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য,এই নৃশংসতম ঘটনার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লালকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মূল অভিযুক্ত শিমুল বিল্লাল চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নিহত রুবির বাড়িতে এখনো পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। এ মামলায় সেনাবাহিনী ও র্যাবের পৃথক অভিযানে আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কারা জড়িত এ ব্যাপারে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকৃত আসামিদের নাম-পরিচয় জানতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম