
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।
গত ৪ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে, দক্ষিণ টেক্সাসের গুয়াদালুপে নদীর তীরবর্তী ৬টি কাউন্টিতে প্রচণ্ড বর্ষণের কারণে আকস্মিক বন্যা বা হড়কা বান দেখা দেয়। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কের কাউন্টিতে।
বন্যার সময় কের কাউন্টির গুয়াদালুপে নদীর দুই তীরে চলছিল মেয়েদের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প, যা ‘ক্যাম্প মিস্টিক’ নামে পরিচিত। ১৯৪৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে বর্তমানে আছে ক্যাম্প মিস্টিক নামের একটি সংস্থা।
কের কাউন্টির প্রধান আইন কর্মকর্তা বা শেরিফের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ৫৬ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ২৮ জন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের সবাই কিশোরী ও তরুণী।
কের কাউন্টির শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জন কিশোরী ও তরুণী, যারা সবাই ওই গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে এখনও ১০ জন নিখোঁজ।
যে ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ২২ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১০ জন শিশুর নাম-পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে নদীর দুই তীরে দেখা দেয় আকস্মিক বন্যা বা হড়কা বান। নদীর দুই তীরেই সামার ক্যাম্পের তাঁবু ফেলা হয়েছিল। ভোর ৪টার দিকে যখন হড়কা বান নদীর দুই তীরে আঘাত হানে- সে সময় প্রায় সবাই ঘুমিয়ে ছিল। ফলে বন্যা আসার আগে কেউ নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে পারেনি। যে কারণে নিখোঁজ-নিহতের সংখ্যাও বেড়েছে। বন্যার সময় নদীর পানি ২৬ ফুট বেড়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
ক্যাম্প মিস্টিকের সহ প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ইস্টল্যাল্ড (৭০) হড়কা বানের সময় ক্যাম্পে আসা মেয়েদের বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন।
আবহাওয়াবিদেরা আরও বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে নদীর স্রোত, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও কর্দমাক্ত মাটির জন্য উদ্ধার কাজে গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শুক্রবার টেক্সাস সফর করার পরিকল্পনা করছেন।
তবে বন্যা পূর্বাভাসে দুর্বলতার জন্য আবহাওয়া সংস্থার বাজেট কাটছাঁটকে দায়ী করে অনেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। এর জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বন্যার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যে দোষারোপ করা হচ্ছে, তা একেবারেই মিথ্যা। এটি জাতীয় শোকের এই সময়ে এটি কোনো কাজে আসবে না।’
সূত্র : বিবিসি
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম