
সংগৃহীত ছবি
‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল’ একটি বাংলা বাগধারা। যার অর্থ প্রাপ্তির আগেই ভোগের আয়োজন। তবে আজ গোঁফে তেল দিয়ে অপেক্ষার দিন শেষ।
আজ শুক্রবার (৪ জুলাই) কাঁঠাল দিবস। কাঁচা কাঁঠাল, পাকা কাঁঠালে, কাঁঠালের বিচি- সবকিছুই দারুণ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। মজার এই ফলটি কাঁচা অবস্থায় রান্না করে খাওয়া যায়। প্রতি বছর ৪ জুলাই কাঁঠাল দিবস পালিত হয়। ২০১৬ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
প্রতি বছর ৪ জুলাই কাঁঠাল দিবস পালিত হয়। এবং বিশ্বজুড়ে ২০১৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
গাছে যখন কাঁঠাল পাকার মৌসুম, তখন আগেকার দিনের মানুষেরা গোঁফে তেল মাখতো। যেন কাঁঠাল খাওয়ার সময় গোঁফে কাঁঠালের আঠা না লেগে যায়। তবে এখন আপনার গোঁফে তেল না মাখলেও চলবে। আপনি আজ কাঁঠাল খান। কারণ, আজ কাঁঠালের দিন।
১৮৮৮ সালের দিকে হাওয়াইতে কাঁঠাল চাষের চেষ্টা করা হয়। তবে তথ্যসূত্র জানা যায়, কাঁঠালের উৎপত্তি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলেই। যেহেতু জনপ্রিয় এই ফল বাংলাদেশের জাতীয় ফল, সুতরাং দিবসটি নিশ্চয়ই আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে!
জেনে নেওয়া যাক কাঁঠালের পুষ্টিগুণঃকাঁচা ও পাকা উভয় ধরনের কাঁঠালেই রয়েছে পুষ্টিগুণ। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কাঁঠালে আছে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিংক ও নায়াসিনসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান।
এক কাপ কাঁঠালে মেলে ১৫৭ ক্যালোরি, ৩৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২ গ্রাম ফ্যাট, ৩ গ্রাম ফাইবার এবং ৩ গ্রাম প্রোটিন।
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল যাদের খাওয়া উচিত নয়ঃযদিও কাঁঠাল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী, কিন্তু কারও কারও ক্ষেত্রে এই ফল খেলে প্রতিকূলতা দেখা দিতে পারে। যাদের রক্ত সংক্রান্ত কোনো রোগ আছে, তাদের কাঁঠাল খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
অতিরিক্ত কাঁঠাল খেলে কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। কাঁঠালে থাকে পোলেন বা ল্যাটেক্স। এই দুই উপাদান কারও কারও শরীরে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
তবে মানব দেহের জন্য কাঁঠাল বিশেষ উপকারী। ভিটামিন ও ফাইবারে পরিপূর্ণ কাঁঠাল খাদ্য তালিকায় রাখলে, শরীরে মিলবে নানা পুষ্টি। এসব পুষ্টিগুণ শরীরের টিস্যুগুলোতে শক্তি যোগায়।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে আমাদের পূর্ব পুরুষের ন্যায় অধিকাংশ মানুষেরই কাঁঠাল পছন্দের শীর্ষে। এবং কাঁঠালকে কেন্দ্র করে অনেক রেসিপিও তৈরি হয় আমাদের দেশে।