কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী সুমনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ ঘটনার মুলহোতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী সুমনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতিত নারীর স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় যুবক ফজর আলীর সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাতে ফজর আলী ওই নারীর ঘরে গেলে ছাত্রলীগ সভাপতি সুমনসহ তার সঙ্গীরা তাদেরকে হাতেনাতে আটক করে।
আরও পড়ুন
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুমন ও তার সহযোগীরা প্রথমে ফজর আলীকে আটক করে বেধড়ক মারধর করে এবং হাত-পা ভেঙে দেয়। এরপর পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং সেই দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া খোকন বলেন, ‘এটি একটি পরকীয়াজনিত ঘটনা হলেও, নারীকে নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণের মতো অপরাধ বরদাশতযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল করিম জানান, ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন। তার সঙ্গী ছিল আরও ১০-১২ জন। তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পেতে নারী ও পুরুষকে হাতেনাতে ধরেন এবং তারপর এমন জঘন্য নির্যাতন চালান।
বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘সুমনের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তারা ‘ফিটিং কেস’ বানিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করে।’
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।’